প্রবাসীদের নীরব কষ্টই শেকড়ের শক্তিশালী দিক

এফ এস নাঈম -সাজ্জাদ হোসেন
দেশের ১১টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে প্রসূন রহমান পরিচালিত ‘শেকড়’। এতে অভিনয় করেছেন এফ এস নাঈম। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
আপনার দৃষ্টিতে ‘শেকড়’ কেমন সিনেমা?
‘শেকড়’ শুধু বাংলাদেশের মানুষের সিনেমা নয়, পৃথিবীর যেখানেই বাংলা ভাষাভাষী মানুষ আছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশি অভিবাসী এবং তাদের পরিবার, এটি তাদের সবার গল্প। এটি সম্পর্ক, অনুভূতি, মায়া ও শ্রদ্ধার সিনেমা। আমার বিশ্বাস, এ সিনেমার প্রতিটি দৃশ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিদের জীবনের সঙ্গে মিলবে। এ কারণেই বলছি, এটি একটি ইউনিভার্সাল ফিল্ম। বিশ্বের যেখানেই বাংলাদেশি থাকুক, তারা এই গল্পে নিজেদের খুঁজে পাবেন।
‘শেকড়’ চরিত্রের কোন দিকটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে?
সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে অভিবাসীদের দেশে ফেরার বিষয়টি। একজন প্রবাসী যখন দেশে ফেরেন, তখন তার ফেরার পেছনে অনেক কারণ থাকে; কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, যারা তাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসে, তাদের প্রত্যাশা বা কারণ ভিন্ন। এ জায়গায় খুব সূক্ষ্ম কিছু আবেগের টানাপড়েন রয়েছে, যা আমাকে ভীষণ ভাবিয়েছে। আরেকটি বিষয়— একজন অভিবাসী বিদেশের মাটিতে যতই ভালো থাকুক, তার ভেতরে নিজের দেশের জন্য একটি চাপা কষ্ট, টান ও শূন্যতা সবসময় কাজ করে। সেই নীরব কষ্টটাই ‘শেকড়’-এর সবচেয়ে শক্তিশালী দিকগুলোর একটি বলে মনে করি।
‘শেকড়’ নিয়ে দর্শকের কী অনুভূতি দেখছেন?
সিনেমাটি দেখে দর্শক আবেগ, মায়া আর ভালোবাসার অনুভূতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন দেখলাম। অনেক প্রবাসীর পরিবার আবেগী হয়ে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরিয়েছেন। সিনেমাটি নিয়ে সবাই ইতিবাচক কথা বলেছেন। মনে হচ্ছে আমাদের পরিশ্রম সফল হয়েছে। ‘শেকড়’ পুরোপুরি সম্পর্কের গল্প। এটি এমন একটি সিনেমা, যেখানে অনেক মানুষের না-বলা কথা উঠে এসেছে। আমাদের প্রত্যেকের পরিবারেই এমন কেউ না কেউ আছেন, যিনি দেশের বাইরে থাকেন। আবার পরিবারের আরেকটি অংশ দেশে থাকেন। সিনেমাটি মূলত এ দুই পক্ষেরই গল্প। অনেক সময় আমরা কিছু কথা বলতে পারি না, কিছু অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি না, আবার অনেক ঘটনার সাক্ষীও হতে পারি না। ‘শেকড়’-এ সেই না-বলা কথাগুলো শোনা যায়, অনেক না-দেখা ঘটনা দেখা যায় এবং অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে অভিবাসী জীবনকে এখানে খুব মানবিকভাবে দেখানো হয়েছে।
প্রসূন রহমানের পরিচালনায় এবং আইশা খানের সঙ্গে এটি আপনার প্রথম কাজ...
আইশার অভিনয় আগেই দেখেছি। তিনি খুব ভালো অভিনয় করেন। ‘শেকড়’-এর গল্প অনুযায়ী চরিত্রটির জন্য এমন একজন অভিনেত্রী প্রয়োজন ছিল, যার মধ্যে একটা স্থিরতা আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কিংবা উপস্থাপনার সময় আইশাকে যতটুকু দেখেছি, আমার সবসময়ই মনে হয়েছে— তিনি খুব শান্ত ও স্থির একজন মানুষ। আমার মনে হয়েছিল, আইশার শান্ত, স্থির ব্যক্তিত্ব এবং চলাফেরা এই চরিত্রের জন্য জুতসই। সেই ভাবনা নির্মাতাকে জানিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয়েছে, তিনি নিজের মতো করে চরিত্রটিকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
আর প্রসূন রহমানের লেখা ও মাহফুজ আহমেদের পরিচালনায় বেশ কিছু কাজ করেছি। প্রসূন রহমানের পরিচালনায় এবারই প্রথম অভিনয় করলাম। তিনি খুব বেশি কথা বলেন না; কিন্তু অল্প কথায় এমনভাবে বুঝিয়ে দেন যে— চরিত্রটি কী চায়, তার প্রয়োজন কী এবং কীভাবে সেটি ফুটিয়ে তুলতে হবে।
নতুন কোন সিনেমায় আপনাকে সামনে দেখা যাবে?
আরও কয়েকটি সিনেমা আসছে। এর মধ্যে দুটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটিতেই আলাদা চরিত্রে অভিনয় করেছি। তবে এখন এর বেশি কিছু বলতে পারছি না। প্রতিটি চরিত্রে আলাদা একটা স্বকীয়তা রাখতে চেষ্টা করি সবসময়। যেমন ওটিটিতে ‘কালপুরুষ’, ‘মিশন হানডাউন’, ‘কারাগার’, ‘খুব কাছের কেউ’ প্রতিটি কাজেই নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। ঠিক একইভাবে নতুন সিনেমাগুলোয় আমাকে নতুনভাবে দেখবে দর্শক। এখন শুধু নির্মাতাদের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার অপেক্ষা।




