টানা দুই বছর অনেক চাপ নিয়ে কাজ করেছি

আইশা খান - আইশা খানের ফেসবুক পেজ
প্রসূন রহমান পরিচালিত ‘শেকড়’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন আইশা খান। গতকাল বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এর বাইরে নাটক ও উপস্থাপনায় নিয়মিত কাজ করছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
‘শেকড়’ সিনেমায় যুক্ত হলেন কীভাবে?
পরিচালক প্রসূন রহমান আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তার কাছে গল্প শোনার পর মনে হলো, ফাল্গুনী চরিত্রটি পর্দায় যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারব। এর প্রায় তিন মাস পর আমরা শুটিং শুরু করি। তবে ফাল্গুনী চরিত্রের জন্য আমার নাম প্রস্তাব করেন অভিনেতা এফ এস নাঈম। এজন্য তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তিনি চমৎকার একজন মানুষ। আমাদের একসঙ্গে খুব বেশি দৃশ্য ছিল না। যতটুকু কাজ করেছি, তিনি ভীষণ সহযোগিতা করেছেন।
কোন কাজ দেখে নাঈম আপনার নাম প্রস্তাব করেন, সেটা কি বলেছেন?
হয়তো বলেছিলেন; কিন্তু এই মুহূর্তে মনে নেই। আমার ব্যাপারে কেউ খারাপ কিছু বললে মনে রাখি আর ভাবি, এটি ঠিক করতে হবে। আর ভালো কিছু বললে ভাবি ভালোই তো! তবে প্রসূন ভাইয়ার কথা মনে আছে। তিনি ও তার স্ত্রী আমার অভিনীত ‘বুক পকেটের গল্প’ নাটকটি দেখেছিলেন। তাই নাঈম ভাই আমার নাম প্রস্তাব করার পর আমাকে ফাল্গুনী চরিত্রে ভাবতে তাদের সুবিধা হয়েছে।
গল্পে ফাল্গুনী মেয়েটি কেমন?
ছোটবেলা থেকেই গান গাইতে খুব ভালো লাগে ফাল্গুনীর। আকাশ তার পাশের বাড়ির এবং ছোটবেলার বন্ধু। আকাশ বিদেশে পাড়ি দিয়েছিল। পরে সে নিজের আট বছরের মেয়েকে নিয়ে দেশে ফিরে আসে। ফাল্গুনীর তখন মনে হয়, এ মেয়েটিকে দেশের গান, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া দরকার। নির্মাতার দৃষ্টিতে, ফাল্গুনী আমাদের দেশের সংস্কৃতি ও সংগীতের ধারক ও বাহক। এটি শেকড় ও অভিবাসনের গল্প।
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
প্রসূন ভাইয়া ভীষণ গোছানো একজন পরিচালক। সেটে কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি বা বিশৃঙ্খলা ছিল না। এমনকি আমাদের কখনো লেট নাইটও করতে হয়নি। প্রতিদিন সাধারণত রাত ১১টার দিকে শুটিং শেষ হয়ে যেত। গাজীপুর, কুষ্টিয়া ও যশোরে শুটিং করেছি আমরা। এত আরামদায়ক পরিবেশ পেয়েছি অনেকদিন পর। দিলারা জামান নানু, সংগীতা চৌধুরী আপু, সমু চৌধুরী আঙ্কেলসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে আগে কাজ করা হয়নি। সবাই বেশ সহায়তাপ্রবণ ছিলেন।
সিনেমাটি উৎসব ছাড়া সাধারণ সময়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেল...
স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষসহ যারা উৎসব ছাড়াই সিনেমাটি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা খুবই কৃতজ্ঞ। এখন বাকিটা নির্ভর করছে দর্শকের ওপর। একটি ভালো গল্পের সিনেমা যদি মানুষ দেখতে আসেন, তাহলে অনেক পরিচালক ও প্রযোজকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে। তারা তখন ভাববেন, মানুষ নতুন ও ভালো গল্প দেখতে চায় যেকোনো সময়। উৎসব ছাড়াও সিনেমা মুক্তি দেওয়া আমার কাছে খুবই ইতিবাচক ব্যাপার। নির্মাতার নেতৃত্বে আমরা নিজেদের জায়গা থেকে যতটা সম্ভব প্রচারণায় অংশ নিয়েছি। আশা করছি, পরিবার নিয়ে সিনেমাটি দেখতে আসবে দর্শক।
ইদানীং নাটকে আপনাকে তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। কারণ কী?
টানা দুই বছর অনেক চাপ নিয়ে কাজ করেছি। ভালো গল্প না এলে কাজ করতে ইচ্ছা করে না। এটি এক ধরনের ব্যক্তিগত অলসতাও বলতে পারেন। দুই মাস ধরে বিরতিতে আছি। আপাতত ‘শেকড়’ নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখতে চাই। সিনেমাটি উপভোগ করব, দর্শক কীভাবে নিচ্ছেন জানব। এরপর হয়তো আবারও শুটিংয়ে ফিরব।
উপস্থাপনা কি করছেন?
হ্যাঁ, এখনো নিয়মিত উপস্থাপনা করছি। এনটিভিতে প্রতি শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ‘রাতের আড্ডা’ উপস্থাপনা করি। বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।






