শ্রীদেবীকে হারানোর ৮ বছর আজ

শ্রীদেবী
বলিউডে আশির দশকে জনপ্রিয় নায়িকা ‘মিস হাওয়া হাওয়াই’ শ্রীদেবী। শুধু বলিউডে নয়, চুটিয়ে কাজ করেছিলেন দক্ষিণী বিনোদন জগতেও। অভিনয় আর নাচ দিয়ে আশি আর নব্বই দশকের হিন্দি সিনেমার দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।
শ্রীদেবী কেবল একজন তারকাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি আস্ত যুগ। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ‘প্রথম মহিলা সুপারস্টার’ হিসেবে স্বীকৃত এই অভিনেত্রী তাঁর অতুলনীয় বহুমুখিতা, অসাধারণ অভিনয় এবং পর্দায় দাপুটে উপস্থিতির মাধ্যমে নায়িকার সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিলেন। হিন্দি, তামিল এবং তেলুগু চলচ্চিত্র মিলিয়ে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে শ্রীদেবী অসংখ্য ব্লকবাস্টার উপহার দিয়েছেন এবং এমন এক লিগাসি রেখে গেছেন যা আজও অতুলনীয়।
তামিলনাড়ুতে জন্ম নেওয়া শ্রীদেবী শিশুশিল্পী হিসেবে তামিল চলচ্চিত্র ‘কান্দান কারুনাই’ এর মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন। খুব দ্রুতই তিনি ‘মুনদ্রু মুদিচু’ সিনেমার মাধ্যমে প্রধান চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন এবং দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা হয়ে ওঠেন। তাঁর অভিনীত ‘১৬ ভায়াথিনিলে’, ‘সিগাপ্পু রোজাক্কাল’, ‘মিনদুম কোকিলা’, ‘মুনদ্রাম পিরাই’, ‘জগদেকা বীরুদু আথিলোক সুন্দরি’ এবং ‘ক্ষণা ক্ষণম’ এর মতো সিনেমাগুলো আজও স্মরণীয়।
১৯৭৯ সালে ‘সোলা সাওয়ান’ এর মাধ্যমে তাঁর হিন্দি সিনেমায় যাত্রা শুরু হলেও ‘হিম্মতওয়ালা’ তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এরপর তিনি বলিউডের শীর্ষ নারী তারকা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’, ‘চাঁদনি’, ‘নাগিনা’, ‘চালবাজ’, ‘লামহে’, ‘খোদা গওয়াহ’, ‘গুমরাহ’ ও ‘জুদাই’ এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দেন।
কিছুদিন বিরতির পর তিনি ‘মালিনী আইয়ার’ সিরিয়ালের মাধ্যমে টেলিভিশনে কাজ করেন। এরপর ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটে। তাঁর শেষ সিনেমা ‘মম’ এ তিনি তাঁর অভিনয়ের গভীরতা আবারও প্রমাণ করেন এবং এই ছবির জন্য তিনি মরণোত্তর সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম নারী সুপারস্টার হিসেবে তিনি অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং সাতটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার যার মধ্যে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও রয়েছে। এছাড়া তামিলনাড়ু স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, কেরালা স্টেট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড এবং নন্দী অ্যাওয়ার্ডেও তিনি ভূষিত হয়েছেন। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’ প্রদান করে।
শ্রীদেবী তামিলনাড়ুতে শ্রী আম্মা ইয়াঙ্গার আইয়াপান হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আইয়াপান ছিলেন একজন আইনজীবী এবং মা রাজেশ্বরী। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ নির্মাণের সময় প্রযোজক বনি কাপুরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ১৯৯৬ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের দুই কন্যা জাহ্নবী কাপুর এবং খুশি কাপুর, উভয়েই বর্তমানে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত।
২০১৮ সালে দুবাইতে আকস্মিক দুর্ঘটনায় শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর হোটেলের বাথরুমে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। একই হোটেলে তার স্বামী বনি কাপুরও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর ছোট মেয়ে খুশির সঙ্গে ভাইপো মোহিত মারওয়ার বিয়েতে যোগ দিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন।
সুত্রঃ নিউজ ১৮



