পর্দায় পপ তারকাদের জাদুকরী জীবন কেন দর্শক টানতে পারছে না?

মাদার মেরি ছবিতে অ্যান হ্যাথাওয়ে
অ্যান হ্যাথাওয়ে সম্প্রতি অংশ নিয়েছেন নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিখ্যাত এক পডকাস্টে। তিনি সেখানে কথা বলেছেন নিজের নতুন সিনেমা ‘মাদার মেরি’ নিয়ে। হ্যাথাওয়ে এই সিনেমায় অভিনয় করছেন একজন বিশ্বখ্যাত পপ ডিভার চরিত্রে। তবে পপ তারকাদের নিয়ে বানানো সিনেমাগুলো দর্শকদের মনে খুব একটা দাগ কাটছে না ইদানীং।
‘দ্য আইডিয়া অফ ইউ’ সিনেমায় হ্যাথাওয়ের ৪০ বছর বয়সী ডিভোর্সি চরিত্রের সাথে এক তরুণ গায়কের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই চরিত্রটি ছিল হ্যারি স্টাইলসের এক হুবহু নকল সংস্করণ মাত্র। সিনেমাটি দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে একটি বয়েজ ব্যান্ডের উন্মাদনা আর মজার সব কাণ্ড। তবে অনুকরণ করে বানানো গানগুলো দর্শকদের কানে বাজলেও তা খুব দ্রুতই ভুলে যায় সবাই।
‘মাদার মেরি’ সিনেমাটি আবার চেষ্টা করেছে একজন মহাতারকার মহিমা পর্দায় তুলে ধরতে। এই চরিত্রটি হাঁটে টেইলর সুইফটের মতো আর পোজ দেয় বিয়ন্সের রাজকীয় স্টাইলে। তার হাতে আছে আরিয়ানা গ্র্যান্ডের মতো আঁকাবাঁকা সব দামী ট্যাটু। বিখ্যাত সব সংগীত পরিচালক সুর করেছেন সিনেমার প্রতিটি গানে, তবুও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত সেই পপ জাদু।
পর্দায় কাল্পনিক কোনো পপ তারকাকে ফুটিয়ে তোলা আসলে সবথেকে কঠিন কাজ। হ্যাথাওয়ে অনেক পড়াশোনা করেছেন পপ তারকাদের চলাফেরা আর আচার-ব্যবহার নিয়ে। তবে এত পরিশ্রমের পরেও সেই ‘আসল অনুভূতি’ খুঁজে পাচ্ছেন না দর্শকরা একদমই। পপ সংগীতের শক্তি চারদিকে ছড়িয়ে থাকলেও সিনেমা বা টিভিতে তা ধরা দিচ্ছে না কোনোভাবেই।
কাল্পনিক কোনো চরিত্রের জনপ্রিয়তা বিশ্বাস করানো মোটেও সহজ কাজ নয়। হ্যারি স্টাইলস বা লেডি গাগার মতো শিল্পীদের মাঝে থাকে এক সহজাত ঈশ্বরপ্রদত্ত আকর্ষণ। ট্রেনিং দিয়ে এই ধরণের তারকা খ্যাতি তৈরি করা প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার। ‘ডেইজি জোনস অ্যান্ড দ্য সিক্স’ সিরিজটি ঠিক একই কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে।
বাস্তব জগতের তারকাদের নিয়ে সিনেমা বানালে ঝুঁকি কমে যায় অনেকটা। লেডি গাগার দুর্দান্ত অভিনয়ই ‘এ স্টার ইজ বর্ন’ সিনেমাটিকে নিয়ে গেছে সাফল্যের শিখরে। অস্টিন বাটলারের এলভিস হয়ে ওঠা দেখতে দর্শকরা ভিড় করেছেন প্রেক্ষাগৃহে দলে দলে। বব ডিলান বা মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকে সব সময় তুঙ্গে।
কিছু সিনেমা আবার পপ তারকাকে কেবল গল্পের ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করেছে সফলভাবে। ‘ট্র্যাপ’ বা ‘স্মাইল ২’ এর মতো হরর সিনেমাগুলো গেঁথেছে পপ কনসার্টের আবহে নিজেদের রহস্যের জাল। এখানে শিল্পীদের গানগুলো ছিল একদম সাধারণ মানের মিউজিশিয়ানদের মতো। এই সাধারণত্বই দর্শকদের কাছে মনে হয়েছে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।
এইচবিও এর ‘দ্য আইডল’ সিরিজের একটি গান তো বাস্তবেও হয়েছে ব্যাপক ভাইরাল। বোকা আর নাটকীয় হলেও গানটি ছিল কানে লেগে থাকার মতো অদ্ভুত এক ছন্দে। আধুনিক সেলিব্রেটি সংস্কৃতির এই বিচিত্র রূপ খুব কম সিনেমাই পারে পর্দায় তুলে ধরতে। গত বছরের ‘লুর্কার’ সিনেমাটি এক পাগল ভক্তের বিষাক্ত প্রেমের গল্প দেখিয়েছে চমৎকারভাবে।
২০১৮ সালের ‘ভক্স লাক্স’ সিনেমাটি দেখিয়েছে পপ জগতের এক অন্ধকার আর শূন্য রূপ। নাটালি পোর্টম্যান সেখানে অভিনয় করেছেন এক ভয়ঙ্কর আর জেদি পপ তারকার চরিত্রে। তিনি পপ গানকে দেখিয়েছেন এক বিষাক্ত নেশা হিসেবে, যা মানুষকে ধ্বংস করে তিলে তিলে। ছবিটি ব্যবসায়িকভাবে সফল না হলেও এর সাহস ছিল সত্যিই অবিস্মরণীয়।
‘মাদার মেরি’ সিনেমাটি হ্যাথাওয়ের দারুণ অভিনয় সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত হয়েছে অনেক বেশি হালকা। আধুনিক তারকাদের বাস্তব অসম্মান বা ভক্তদের চাপের গল্পটি সিনেমাটি ফুটিয়ে তুলতে পারেনি ঠিকভাবে। পপ তারকা হওয়ার আসল লড়াইয়ের বদলে কেবল বাহ্যিক জৌলুস দেখালে মন ভরে না দর্শকদের। সব চেষ্টা বিফলে যায় যদি গানের মাঝে না থাকে সেই আসল জাদুকরী ছোঁয়া।



