স্পিলবার্গের নতুন সিনেমা স্টার সিনেপ্লেক্সে

বিশ্বখ্যাত নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গের নতুন সিনেমা ‘ডিসক্লোজার ডে’ আগামী ১২ জুন বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও ছবিটি প্রদর্শিত হবে।
হলিউডের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী পরিচালক স্পিলবার্গ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণে সক্রিয়। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলো বিশ্বব্যাপী ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। পাশাপাশি তিনি তিনবার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেছেন। ফলে তার নতুন কোনো সিনেমার ঘোষণা এলেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও আবেগঘন গল্পভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের পর এবার স্পিলবার্গ ফিরেছেন তার পরিচিত বিজ্ঞান কল্পকাহিনির জগতে। ‘ডিসক্লোজার ডে’র কাহিনি পুরোপুরি প্রকাশ করা না হলেও জানা গেছে, এটি ভিনগ্রহের প্রাণীর পৃথিবীতে আগমন এবং সেই সত্য গোপন রাখতে একটি বৃহৎ সরকারি ষড়যন্ত্রকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে।
এ ধরনের গল্প স্পিলবার্গের জন্য নতুন নয়। এর আগে ‘ই.টি. দ্য এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল’, ‘ক্লোজ এনকাউন্টারস অব দ্য থার্ড কাইন্ড’ এবং ‘ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডস’-এর মতো চলচ্চিত্রে তিনি অজানা জগতকে মানবিক আবেগের সঙ্গে সফলভাবে উপস্থাপন করেছেন।
ছবিতে এমিলি ব্লান্ট অভিনয় করেছেন একজন আবহাওয়া সংবাদকর্মীর চরিত্রে, যার সঙ্গে ভিনগ্রহের আগন্তুকদের রহস্যময় যোগাযোগ রয়েছে। জশ ও’কনরকে দেখা যাবে এমন এক ব্যক্তির ভূমিকায়, যিনি মানুষের সঙ্গে অন্য জগতের যোগাযোগের প্রমাণ হাতে পেয়েছেন। আর কলিন ফার্থ অভিনয় করেছেন ক্ষমতাধর এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার চরিত্রে, যিনি সত্য গোপন রাখতে যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত।
সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন ডেভিড কোয়েপ। এর আগে তিনি স্পিলবার্গের সঙ্গে ‘জুরাসিক পার্ক’-এ কাজ করেছিলেন।
ইতোমধ্যে সিনেমাটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অনেকেই এটিকে গত দুই দশকে স্পিলবার্গের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, রহস্য, রোমাঞ্চ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং আবেগের সমন্বয়ে নির্মিত ছবিটি স্পিলবার্গের চেনা জাদুতে ভরপুর। পাশাপাশি এমিলি ব্লান্টের অভিনয়ও বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্পিলবার্গের ভাষ্য, সিনেমাটি যেমন কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবে, তেমনি মহাবিশ্বের অজানা রহস্য নিয়ে নতুন করে ভাবতেও বাধ্য করবে দর্শকদের। ছোটবেলা থেকেই মহাকাশ নিয়ে কৌতূহলী এই নির্মাতা উল্লেখ করেছেন, ছবিটি মানুষকে অজানাকে জানার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেবে।
সব মিলিয়ে ‘ডিসক্লোজার ডে’কে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। মুক্তির পর সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।





