মেরিল স্ট্রিপের সিনেমায় বদলে যাওয়া সাংবাদিকতা

২০০৬ সালের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ এত ব্যাপকভাবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ।
বহু প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েলও একইভাবে দর্শকদের মন জয় করবে—এমনটি আশা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী।
‘এটি নারী ও তরুণীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় হবে, কিন্তু এর বাইরেও এত বড় পরিসরে সাফল্য পাওয়া সত্যিই অবাক করেছে। অনেক পুরুষও আমার কাছে এসে বলেছেন, তারা এই চরিত্রটি বুঝতে পেরেছেন—এটা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার’—দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে এক প্রমোশনাল অনুষ্ঠানে বলছিলেন স্ট্রিপ।
নতুন ছবিতে আবারও মিরান্ডা প্রিস্টলি চরিত্রে দেখা যাবে স্ট্রিপকে, যিনি এখনো ‘রানওয়ে’ ফ্যাশন ম্যাগাজিনের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তবে সময় বদলে যাওয়ায় মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে টিকে থাকার লড়াইও তার চরিত্রে যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে অ্যান হ্যাথাওয়েও ফিরছেন অ্যান্ডি স্যাকস চরিত্রে। এবার তিনি একজন অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিক, যিনি দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও প্রিস্টলির সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত হন।
‘দুই সিনেমার মধ্যে ২০ বছরের ব্যবধান গল্পের জন্য আদর্শ সময় এনে দিয়েছে। প্রথম ছবিতে অ্যান্ডি ছিল ২২ বছরের তরুণী, যার মাথায় অনেক আইডিয়া থাকলেও বাস্তব অভিজ্ঞতা কম ছিল। এখন সে ২০ বছর জীবন কাটিয়েছে, অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, আত্মবিশ্বাস পেয়েছে, আবার কিছুটা বিনয়ও এসেছে’—উল্লেখ করেন হ্যাথাওয়ে।
তার মতে, প্রথম সিনেমাটি তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছিল।
‘এই সিনেমা আমার জন্য অনেক দরজা খুলে দিয়েছে। এটি দর্শকদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করেছে, যার ফলে আমি আরও ঝুঁকি নিতে পেরেছি এবং ভিন্নধর্মী চরিত্র বেছে নিতে সাহস পেয়েছি’—যোগ করেন হ্যাথাওয়ে।
স্ট্রিপ প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নিয়ে বলেছেন, ‘প্রথম সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল আইফোন আসার আগের বছর। আজ আপনারা যে ফোনটি পকেটে রাখেন, সেটি পুরো প্রকাশনা ও মিডিয়া জগৎ বদলে দিয়েছে। ঠিক সেই পরিবর্তনের মধ্যেই এই সিক্যুয়েলের গল্প দাঁড়িয়ে আছে।’
সিনেমার বার্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিষ্কার করেন স্ট্রিপ। ‘কোনো নির্দিষ্ট বার্তা চাপিয়ে দিতে চাই না। দর্শকরা এসে শুধু বিনোদন নিন, আবার একই সঙ্গে আমাদের সময়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও অনুভব করুন—আমি চাই মানুষ নিজের মতো করে অর্থ খুঁজে নিক।’
অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়া সফরের অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন দুই অভিনেত্রীই। স্ট্রিপ জানালেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে বহু বছর ধরে কোরিয়ান বারবিকিউ উপভোগ করলেও সিউল সফর তার জন্য বিশেষ আনন্দের।
শহরে আরও সময় কাটাতে পারলে ভালো হতো—বিশেষ করে স্টারফিল্ড লাইব্রেরি ঘুরে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন হ্যাথাওয়ে।
সূত্র : কোরিয়া হেরাল্ড



