‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্রে বেলুচিস্তানকে কেন গুরুত্বপূর্ণ করা হয়েছিল?

রণবীর সিং
রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে বেলুচিস্তানকে। এই চলচ্চিত্রে নানা সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্পট ছিল পাকিস্তানের প্রদেশটি। সিনেমায় করাচির লিয়ারি এবং বালুচ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে সিনেমায় মুখ্য অংশই ছিল বালুচ জাতিগোষ্ঠী।
ছবির কেন্দ্রীয় প্রতিপক্ষ রেহমান ডাকাত একজন বালুচ চরিত্র এবং নায়ক হামজা আলি মাজারিও নিজেকে বেলুচিস্তানের মানুষ হিসেবে পরিচয় দেয়, যাতে সে ওই অপরাধচক্রে প্রবেশ করতে পারে। ছবিতে বেলুচিস্তানকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তার কয়েকটি দিক হলো— অপরাধ ও সশস্ত্র নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত অঞ্চল হিসেবে বেলুচ পরিচয়কে ব্যবহার করা হয়েছে। রেহমান ডাকাতের চরিত্র এবং তার গ্যাংকে বেলুচ পটভূমির অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
কঠিন ও অস্থিতিশীল সীমান্ত অঞ্চল হিসেবে বেলুচিস্তানকে নিয়ে একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে- যেখানে আন্ডারওয়ার্ল্ড, গোয়েন্দা অভিযান এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী মিশনের উপাদান একসঙ্গে মিশেছে। ছবির নায়ক রণবীর সিংকে ওই পরিবেশে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তার পরিচয় ‘হামজা আলি মাজারি’ অর্থাৎ একজন বেলুচ হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে সে লিয়ারির বালুচ গ্যাংয়ের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়।
তবে এই উপস্থাপনা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। পাকিস্তানের কিছু সমালোচক ও লিয়ারির বাসিন্দাদের মতে, ছবিটি লিয়ারি ও বেলুচ জনগোষ্ঠীকে অতিরিক্ত সহিংস ও অপরাধপ্রবণ হিসেবে দেখিয়েছে, যা বাস্তবতার একপাক্ষিক চিত্র। অন্যদিকে নির্মাতারা ছবিটিকে বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত একটি স্পাই-থ্রিলার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, তথ্যচিত্র হিসেবে নয়।
আসলে ‘ধুরন্ধর’ চলচ্চিত্রে বেলুচিস্তানকে একটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও অপরাধচক্রের প্রভাবিত অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে। যেন গল্পে আন্তর্জাতিক স্পাই-থ্রিলারের আবহ তৈরি হয়। এটাই হলো আসল কারণ।
তবে অনেকেই বলছেন, এই চিত্রায়ণকে বেলুচিস্তান বা বেলুচ জনগোষ্ঠীর বাস্তব অবস্থার পূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে দেখা উচিত নয়। আর ভারতীয় অংশ থেকে পাকিস্তানের অংশের বলা গল্প নিয়ে বিতর্ক বরাবরই থাকে।
তবে এই সিনেমার পরই সাধারণ মানুষের কাছে বেলুচিস্তান পরিচিতি পায়। সম্প্রতি রাজ্যটি স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে এমন খবরে এ দেশের মানুষও বেলুচিস্তানের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।





