সফল বৈবাহিক জীবনের মন্ত্র জানালেন মাধবন

আর. মাধবন ও তার স্ত্রী সারিতা
গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে তারকাদের প্রেম, পরকীয়া আর ডিভোর্সের খবর যেখানে নিত্যদিনের ব্যাপার, সেখানে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে এক নারীর প্রেমে মগ্ন থেকে বলিউডে অনন্য নজির গড়েছেন সবার প্রিয় ‘ম্যাডি’ থুড়ি আর. মাধবন। ‘রেহনা হ্যায় তেরে দিল মে’ বা ‘থ্রি ইডিয়টস’ খ্যাত এই চকোলেট বয় হিরোর প্রেমে একসময় হাবুডুবু খেত কোটি তরুণী। এক সময় বলছি কেন, ৫৬ বছর বয়সী এই অভিনেতার প্রেমে এখনও হাবুডুবু খায় তরুণীরা। কিন্তু এত গ্ল্যামার আর প্রলোভনের মাঝেও কীভাবে স্ত্রী সারিতার প্রতি এতটা অনুগত রইলেন অভিনেতা? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত মজাদার ও সৎ জবাবে নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছেন মাধবন।
সাক্ষাৎকারে হাসতে হাসতে মাধবন নিজেকে একজন ‘ডরপোক মাদ্রাজি মিডল ক্লাস ম্যান’ বলে দাবি করেন। ইন্ডাস্ট্রির রূপবতী নায়িকাদের সাথে কাজ করা প্রসঙ্গে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, ‘সুন্দর মেয়ে দেখলে আমারও ভালো লাগে, আকর্ষণ বোধ করি। কিন্তু দিনশেষে আমি ওই ঝামেলায় যেতে চাই না। বাইরে রাত কাটিয়ে স্ত্রীকে মিথ্যা অজুহাত দেওয়ার চেয়ে, চুপচাপ ঘরে ফিরে বউকে জড়িয়ে ধরে শান্তিতে ঘুমানো অনেক সহজ! বিশ্বস্ত থাকাটা আসলে আমাদের পারিবারিক রক্তেই আছে।’
মাধবন আরও জানান, তার ফোনের পাসওয়ার্ড থেকে শুরু করে ব্যাংকের সব আর্থিক লেনদেন, সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ তাঁর স্ত্রী সারিতার হাতে। ফলে লুকুচুরি করার কোনো সুযোগই নেই!
কেরিয়ারের শুরুতে যখন মাধবন তুমুল জনপ্রিয়, তখন অনেকেই তাকে ক্যারিয়ার বাঁচানোর স্বার্থে ‘বিবাহিত’ পরিচয় লুকিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু মাধবন তা না করে বুক ফুলিয়ে সারিতাকে সবার সামনে নিয়ে আসেন। শুটিংয়ে ভালোবাসার পরীক্ষা প্রসঙ্গে নিজের মেন্টর ও কিংবদন্তি পরিচালক মণি রত্নমের একটি পরামর্শের কথা শেয়ার করেন মাধবন। মণি রত্নম তাকে বলেছিলেন, ‘যখন কোনো সম্পর্ক সুন্দরভাবে চলছে, তখন পার্টনার তোমাকে কতটা ভালোবাসে তা যাচাই করার জন্য অকারণে বারবার পরীক্ষা নিতে যেও না। এই পরীক্ষার জেদই অনেক সময় সুন্দর সম্পর্কগুলো ভেঙে দেয়।’
এরপর থেকেই মাধবন আউটডোর শুটিংয়ে সারিতাকে সাথে নিয়ে যেতেন, যাতে নিজেকে কোনো প্রলোভনের মুখে পড়তে না হয়। এমনকি মেয়ে ভক্তদের পাঠানো ‘লাভ লেটার’গুলোও তিনি বাসায় এসে স্ত্রীর সাথে বসে মজা করে পড়তেন!
১৯৯৯ সালের ৬ জুন সারিতার হাত ধরেছিলেন মাধবন। আজ ২০২৬ সালেও তাদের এই নিখাদ ও সৎ ভালোবাসার গল্প প্রমাণ করে যে, পারস্পরিক বিশ্বাস আর সততা থাকলে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের চকমকি আলোও একটি সুন্দর পরিবারকে স্পর্শ করতে পারে না।









