তাবুকে দেখে হিংসা হতো সোনালীর

তাবুকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য সোনালী কুলকার্নির
পুরস্কারের মঞ্চে তারকারা যখন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান, পর্দার পেছনের আসল অনুভূতিটা কি সবসময় তেমনই থাকে? নাকি সেখানেও ভর করে হিংসা আর ক্ষোভ? সম্প্রতি এই চিরন্তন সত্যটি নিয়ে একদম অকপট ও বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিলেন বলিউডের গুণী অভিনেত্রী সোনালী কুলকার্নি।
নব্বইয়ের দশকে সহঅভিনেত্রী তাবুর ওপর তিনি এতটাই রেগে গিয়েছিলেন এবং হিংসা করেছিলেন যে, নিজের নিরাপত্তাহীনতা ঢাকতে সিনেমা হলে গিয়ে তাবুর ছবি দেখতে বাধ্য হয়েছিলেন!
ঘটনাটি ১৯৯৭ সালের। সেই বছর গুলজারের কালজয়ী সিনেমা ‘মাচিস’-এর জন্য ক্যারিয়ারের প্রথম ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নেন তাবু।
অন্যদিকে সেই বছরই অমল পালেকরের ‘দাইরা’ সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কারের অন্যতম প্রধান দাবিদার ছিলেন সোনালী কুলকার্নি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পুরস্কারটি তাবুর ঝুলিতে চলে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছিলেন সোনালী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই যন্ত্রণাদায়ক মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে সোনালী বলেছেন, ‘পুরস্কার হাতছাড়া হওয়ার পর আমি মোটেও ইতিবাচক ছিলাম না। বরং আমি তাবুর ওপর প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলাম এবং ওকে মারাত্মক হিংসা করতে শুরু করেছিলাম। শুধু তাবু নয়, সেই সময়ে যারা পুরস্কার পাচ্ছিল, সবার প্রতিই আমার মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।’
সোনালী জানিয়েছেন, তখন তার একের পর এক সিনেমা জাতীয় পুরস্কারের ফাইনাল রাউন্ড পর্যন্ত গিয়েও শেষ মুহূর্তে বাদ পড়ে যেত। অন্য সব পুরস্কার পেলেও দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান না পাওয়ার আফসোস তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল।
তাবুর জেতার পর নিজেকে সান্ত্বনা দিতে তখনকার এক বিখ্যাত লাইনের আশ্রয় নিয়েছিলেন সোনালী। তিনি ভাবতেন, তাবু তো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরই ঘরের মেয়ে তাই ও-ই পাবে!
তবে এই রাগ আর ঈর্ষাই সোনালীকে তাবুর আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। তাবুর প্রতি ক্ষোভ থেকেই তিনি সিনেমা হলে গিয়ে ‘মাচিস’ দেখার সিদ্ধান্ত নেন। আর সিনেমাটি দেখার পরেই ঘটে ম্যাজিক!
সোনালী বলেছেন, ‘যখন আমি স্ক্রিনে তাবুর অভিনয় দেখলাম, তার সেই শক্তিশালী পারফরম্যান্স আমার ভেতরের সব নিরাপত্তাহীনতা আর ছটফটানি দূর করে দিল। তার অভিনয় আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল, নিজের যোগ্যতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছিল। এরপর যখন আমি তার ‘অস্তিত্ব’ এবং ‘চাঁদনী বার’-এর মতো সিনেমাগুলো দেখি, আমি প্রতিবার তার প্রেমে পড়ে যাই।’
পরবর্তীতে ২০০২ সালে একটি মারাঠি শর্ট ফিল্মের জন্য জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে বিশেষ জুরি সম্মান পেয়েছিলেন সোনালী কুলকার্নি। তবে আজ আর কোনো ট্রফির পেছনে দৌড়ানোর ইচ্ছে নেই তার।
সোনালীর বর্তমান জীবনের একমাত্র বড় স্বপ্ন বা ‘উইশ লিস্ট’ হলো—যাকে একসময় হিংসে করেছিলেন, সেই পাওয়ারহাউজ অভিনেত্রী তাবুর সাথে স্ক্রিন শেয়ার করা!





