এশিয়া : অফসাইড
অধিকার বুঝে নেওয়ার দাবি
- বার্লিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটি ‘সিলভার বিয়ার’ পদক জয় করলেও ইরানে এখনো নিষিদ্ধ

ফুটবলে অফসাইড এমন একটি নিয়ম, যে অবস্থান থেকে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠালেও গোল বাতিল হয়ে যায়। যারা নিয়মিত ফুটবল খেলা দেখেন না, তাদের জন্য অফসাইডের ফাঁদ বুঝতে পারা একটু জটিলই। একই শিরোনামে ২০০৬ সালে ইরানি ফিল্মমেকার জাফর পানাহি যে চলচ্চিত্র বানিয়েছেন, তাতে প্রতীকীভাবে একদল নারী দর্শক নিজেদের খুঁজে পায় অফসাইড পজিশনে। বিপ্লবোত্তর ইরানে নারীদের চলাফেরার ওপর আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে একটি হলো, তারা স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখতে পারবেন না।
‘অফসাইড’-এ দেখা যায়, তেহরানের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের একটি ম্যাচে বাহরাইনের বিপক্ষে ইরানের খেলা দেখতে ছেলেদের ছদ্মবেশে হাজির হয়েছে বেশ কয়েকজন কিশোরী ও তরুণী। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারিতে তারা ধরা পড়ে। তাদের গ্যালারির বাইরে আটকে রাখা হয় বিচারের মুখোমুখি করার জন্য। এরই মধ্যে এক কিশোরী কৌশলে ঢুকে পড়ে গ্যালারিতে। অন্যদের সামনে নিশ্চিত শাস্তি পাওয়ার শঙ্কা। তবু ওদের কেউ কেউ ভীষণ বেপরোয়া। কেননা, গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার অধিকার তাদেরও রয়েছে, এমন প্রত্যয় তাদের। ম্যাচে ইরান ১-০ গোলে জয় পায় এবং বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়। এ আনন্দে বন্দি থাকা মেয়েরা এবং তাদের পাহারাদার সৈনিকরা একসঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। শুধু একটি মেয়েই থাকে বিষণ্ন। কারণ হিসেবে সে জানায়, খেলার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ নেই। সে স্টেডিয়ামে এসেছিল শুধু নিজের এক বন্ধুকে স্মরণে রেখে, যে কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত ইরান-জাপান ম্যাচের সময় মারামারিতে জড়িয়ে প্রাণ হারানো সাতজনের একজন।
এ ফিল্মের বেশিরভাগ অংশেরই শুটিং পানাহি করেছিলেন সত্যিকার অর্থেই খেলা চলার সময়, স্টেডিয়ামে। বানোয়াট চিত্রনাট্য জমা দিয়ে এর অনুমতি নিয়েছিলেন। সম্পন্ন করার পর মুক্তি দিতে পারেননি। রাষ্ট্রীয় কঠোর অনুশাসনের বিরুদ্ধে অধিকার বুঝে নেওয়ার জোরালো দাবি তোলার সিনেমা ‘অফসাইড’ বার্লিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘সিলভার বিয়ার’ পদক জয় করলেও ইরানে এখনো নিষিদ্ধ।




