গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. নাজমুল

সংগৃহীত ছবি
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত।
আজ রবিবার রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ (সংশোধিত ২০২৫)-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাতকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে তাঁর নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত—যেটি আগে ঘটবে। উপাচার্য হিসেবে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। তবে প্রয়োজন হলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ সায়েন্স স্কুলের অধীন ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তার রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক (ডিরেক্টর অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্ষদ ও কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জাতীয় পর্যায়েও তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ অনুযায়ী পুনর্গঠিত জাতীয় বন্যপ্রাণী উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরকারকে নীতিগত পরামর্শ দিয়ে আসছেন।
গবেষণার ক্ষেত্রেও অধ্যাপক নাজমুস সাদাতের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। বন, পরিবেশ বিজ্ঞান, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও সামাজিক সহনশীলতা নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের ইউট্রেখ্ট ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ: জলবায়ু ও উন্নয়ন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অংশ নেন। এছাড়া সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র, সুন্দরী গাছের বিভিন্ন রোগ এবং সেগুলোর প্রতিকার নিয়েও তিনি কাজ করছেন।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে তার নিয়োগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এবং বিভিন্ন শিক্ষাব্রতী মহল অভিনন্দন জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নতুন গতি পাবে।




