গভীর রাতে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা, বিপাকে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৫ জেলায় বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে শেষ মুহূর্তে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরীক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি ও নিরাপত্তা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আজ বুধবার সকাল থেকে চরম বিপাকে পড়েন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক।
গতকাল মধ্যরাতে পরপর তিনটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার বুধবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। প্রথম নোটিসে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি। দ্বিতীয় নোটিসে কক্সবাজার এবং রাত ১টা ১৫ মিনিটে বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে বেশির ভাগ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক ঘুমিয়ে পড়েন। ফলে বিশাল একটি অংশ এই জরুরি খবর পাননি।
গত কয়েকদিন ধরে এবং আজ সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলছে অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টি, কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই শত প্রতিকূলতা ঠেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক পরীক্ষার্থী সকাল সকাল রওনা হন নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে।
সরেজমিন এবং বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সকাল থেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সামনে ছিল পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপচেপড়া ভিড়। বুক সমান পানি, কোথাও কোমর পানি ভেঙে ভিজতে ভিজতে কেন্দ্রে পৌঁছে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন— আজ পরীক্ষা হবে না।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ এক অভিভাবক বললেন, যদি পরীক্ষা স্থগিতই করতে হয়, তবে তা সন্ধ্যার মধ্যে জানানো হলো না কেন? গভীর রাতে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে, তখন ফেসবুক বা টিভিতে স্ক্রল দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা কি প্রশাসনের কাজ? আমার মেয়ে কোমর পানি পাড়ি দিয়ে ভিজে একাকার হয়ে কেন্দ্রে এসেছে। এখন শুনছি পরীক্ষা নেই! ওর যদি কিছু হতো, এই দায় কে নিত?
সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের মতে, আবহাওয়া পরিস্থিতি দুই-তিন দিন ধরেই খারাপ ছিল। বন্যা ও প্লাবনের পূর্বাভাসও ছিল স্পষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল অন্তত ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া। তা না করে একদম শেষ মুহূর্তে— গভীর রাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রশাসনের চরম সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতারই প্রমাণ দেয়।
এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয়েছে। তবে সামনের পরীক্ষাগুলোর ক্ষেত্রে আগেই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।
খাগড়াছড়ির এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) হাসান মারুফ জানান, ক্রমাগত বৃষ্টির কারণে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আমরা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিই। অপেক্ষায় ছিলাম বৃষ্টি কমে কি না। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিই।
তিনি আরও বললেন, নোটিস না দিয়ে যদি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তে থাকতাম, তবে বৈরী আবহাওয়ায় অনেকেই আসতে পারত না। তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যেত।
তবে তথাকথিত আশ্বাসে ক্ষোভ কমছে না ভুক্তভোগীদের। ঝড়-বৃষ্টি আর বন্যার পানিতে ভিজে যে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আজ মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হলেন, তার দায় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরীক্ষা স্থগিতের নোটিস জারি হয়। যদিও তা প্রকাশ করতে রাত হয়ে যায়।
ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে আরও সচেতনতামূলক আচরণ ও তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রফেসর ড. সৈয়দ আকতারুজ্জামান।




