৫ সেশনের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফের সুযোগ দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

ফাইল ছবি
শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ পুলে অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আজ শনিবার গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন ও ভিশন অনুমোদনসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনকে আরও সহজ, কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৪ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হলো।
সভায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় আরও একবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কিল-বেইজড পিজিডি প্রোগ্রামে ফ্রিল্যান্সিং—গ্রাফিকস ডিজাইন, ভিডিয়ো এডিটিং ও ওয়েব ডিজাইন; কালিনারি সায়েন্স (শেফ) এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ ক্রেডিটের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্স এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ফাংশনাল ইংরেজি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মনে করছে, এসব উদ্যোগের ফলে শিক্ষক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা সহজ হবে। একইসঙ্গে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এছাড়াও সভায় বিসিএসসহ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৩ বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) কোর্স এবং ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ৪ বছর মেয়াদি ডিগ্রি সনদ এবং মাস্টার্স প্রিলিমিনারি সনদকে ৪ বছর সমতুল্য ডিগ্রি হিসেবে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
সার্বিক বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর ড. আমানুল্লাহ বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিটি একাডেমিক সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। একজন শিক্ষার্থী যেন পড়াশোনা শেষ করে দক্ষতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন—আমরা সেই জায়গাটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। অবসর নেওয়া অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুযোগ তৈরি করতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পুল গঠন করা হচ্ছে।’
স্কিল-বেইজড পিজিডিতে নতুন বিষয় যুক্ত করার বিষয়ে ভাইস-চ্যান্সেলর বললেন, ‘শুধু প্রচলিত ডিগ্রি যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।’







