কিন্তু

সংঘর্ষের পর থমথমে ডুয়েট। চলছে ব্লকেড। কিন্তু কেন? নতুন ভিসিকে চায় না একপক্ষ। আরেকপক্ষ চায়। কারণ নিশ্চয়ই আছে— থাকতেই পারে। কিন্তু পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে কেন সংঘর্ষে জড়াল ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির? তবে কি আপাত নিরীহ দাবির আড়ালে আছে ক্ষমতার লড়াই? আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব? আবারও কি সেই নেস্টি পলিটিকস?
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তো বটেই, জাতীয় রাজনৈতিক ইতিহাসের বড় একটি অংশ জুড়ে আছে ছাত্ররাজনীতি। জাতীয় মুক্তি ও গণতন্ত্র রক্ষায় এর গৌরবময় ভূমিকা অস্বীকার করার নয়। তবে তা এখন অনেকটাই অতীত— ফিকে হয়ে যাওয়া অ্যালবামের ছবির মতো। আগের সেই নির্মোহ ও নির্মল রাজনীতিতে ছাত্ররাজনীতি আর সীমাবদ্ধ নেই। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি আধিপত্য বিস্তার, সহিংসতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাত্রনেতাদের একটি অংশের কর্মকাণ্ডে।
একদল ছাত্ররাজনীতির পক্ষে। তাদের কথা, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, বাগ্মিতা ও ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সচেতন ও সংঘবদ্ধ করে। আরেক পক্ষ ছাত্ররাজনীতির ঘোরবিরোধী। তাদের যুক্তি, ছাত্রসংগঠনগুলো কাজ করে মূল রাজনৈতিক দলের হাতিয়ার হিসেবে। তাই চাপা পড়ে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব দাবি-দাওয়া। এটি প্রমাণিত সত্য। নব্বই দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর ক্রমেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এদিকে ‘গোদের উপর বিষফোড়া’ হয়েছে শিক্ষক রাজনীতি। শিক্ষকদের বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং চাকরির নিরাপত্তার জন্য শিক্ষক সমিতি বা সংগঠন থাকতেই পারে। কিন্তু নতুন করে রাজনীতি কেন? শিক্ষকরা রাজনীতিতে সময় দিলে ক্লাস নেবেন কারা? কীভাবে ঘটবে শিক্ষার উন্নয়ন? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যোগ্যতা ও গবেষণার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যকেই প্রাধান্য দেন শিক্ষক নেতারা। এতে ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার মান ও প্রতিষ্ঠানের র্যাংকিং। শিক্ষকদের মধ্যে দলীয় আনুগত্য (ক্ষমতাসীন বা বিরোধী দল) ক্যাম্পাসে তৈরি করছে চরম মেরূকরণ, যা কলুষিত করছে শিক্ষার পরিবেশ। এর প্রভাব পড়ছে ছাত্ররাজনীতিতেও। ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি অনেক সময় সহিংস ও ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে উঠছে শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি। ডুয়েটের ঘটনার আড়ালে কি তবে তাই?
এ প্রসঙ্গে আহমদ ছফার স্যাটায়ারিক উপন্যাস ‘গাভী বিত্তান্ত’-এর কথা মনে পড়ে গেল। একটি গাভীকে কেন্দ্র করে লেখক তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নোংরা রাজনীতি, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সামাজিক অবক্ষয়কে। উপাচার্য হওয়ার পর নিরীহ একজন অধ্যাপক ‘উপাচার্য ভবনে’ গাভী পালন ও তার নানা ঘটনা রূপক হিসেবে ব্যবহার করে ছফা দেখিয়েছেন সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থার ভঙ্গুর চিত্র। তবে কি ছফার গাভীর রূপক বৃত্তান্ত সত্যেরই নামান্তর?






