এবার নবম শ্রেণি পর্যন্ত লটারিতে ভর্তির চিন্তা

ছবি: বিবিসি/গেটি ইমেজেস
সমালোচনার মুখে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে আগেই সরে এসেছিল সরকার। এবার দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতেও একই পদ্ধতি চালুর চিন্তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। তাই আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭) থেকে এসব শ্রেণিতেও চালু হতে পারে লটারি পদ্ধতি। আজ রবিবার মন্ত্রণালয়ে স্কুল ভর্তি-সংক্রান্ত এক বৈঠকে হয়েছে এমন আলোচনা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন জানিয়েছেন, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালুর বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে এখনো হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। যদিও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক আগামীর সময়কে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃতভাবে আলোচনা হবে অংশীজনদের সঙ্গে। এরপরই নেওয়া হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নামিদামি স্কুলগুলোয় প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী শ্রেণিগুলোয় পড়াশোনা করে। ফলে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে প্রতিবছর শূন্য আসনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এসব সীমিত আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করতে গিয়ে প্রতিবছর নানা অভিযোগ আসে। এ কারণে সীমিত আসনের জন্য ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন যুগ্মসচিব আগামীর সময়কে বলেন, প্রথম শ্রেণির মতো একই প্রতিষ্ঠানের অন্য শ্রেণিগুলোয় একই ধরনের ভর্তি পদ্ধতি রাখা হলে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ, অভিন্ন ও বিতর্কমুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে লটারির মাধ্যমে ভর্তি করলে কমতে পারে কোচিংনির্ভরতা ও ভর্তি-বাণিজ্যের সুযোগ।
বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ১৬ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি তুলে দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হবে। তার এই ঘোষণার পর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয় অভিভাবকদের মধ্যে; হয় সমালোচনাও। বিশেষ করে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং, প্রাইভেট ও বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতিমূলক বাণিজ্য বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
প্রশ্ন ওঠে প্রথম শ্রেণির শিশুকে ভর্তি পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি ব্যবস্থা চালু হয় ২০১১ শিক্ষাবর্ষে। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি তখনো পরীক্ষার মাধ্যমেই হতো। পরবর্তী সময়ে করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরও কয়েক বছর এ পদ্ধতি অব্যাহত থাকে। ফলে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি একটি পরিচিত পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে অভিভাবকদের কাছে।







