প্রাথমিকে চালু হচ্ছে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ বই

সচিবালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় কাজ করছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি : আগামীর সময়
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে যুক্ত হতে যাচ্ছে ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক পাঠ্যবই। সরকারের নতুন এই উদ্যোগের ফলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সংগীত, নৃত্যকলা, চারুকলা, নাট্যকলা ও ক্রীড়া বিষয়ে শিক্ষিত প্রায় ৫০-৬০ হাজার তরুণ-তরুণীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও দক্ষ শিক্ষক তৈরির লক্ষ্যে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, নতুন কারিকুলামের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ পাঠ্যবই চালু করা হবে। প্রাথমিক অবস্থায় এই বইটিতে ৪টি অধ্যায়ের মাধ্যমে চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্যকলা এবং নাট্যকলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামে এই বিষয়গুলো পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হবে।
মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত শিক্ষা-দর্শন অনুযায়ী দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক নাগরিক গড়ে তোলার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিকে সংগীত, নৃত্যকলা ও ক্রীড়াভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে বিপুল সংখ্যক বিশেষায়িত শিক্ষক ও প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য একটি টেকসই ক্যারিয়ার পাথওয়ে গড়ে উঠবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সংগীত, নাট্যকলা ও নৃত্যকলাকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে না রেখে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে। সে লক্ষ্যে এখন থেকেই কারিকুলাম উন্নয়ন ও দক্ষ শিক্ষক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলছিলেন, আমরা চাই আপনাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাক। সে লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করতে আমরা আগ্রহী।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সরকারের এই যুগান্তকারী উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং দক্ষ শিক্ষক তৈরিতে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন।




