‘শিক্ষার্থীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বাসেডর’

টিএসসির সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ক্যাডারস রিসেপশন অ্যান্ড গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ— আগামীর সময়
‘কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়ে শিক্ষার্থীরা পরিচিত হয় না, বরং শিক্ষার্থীরাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় তুলে ধরে’— এমন মন্তব্য করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ।
তিনি বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বাসেডর। শিক্ষার্থীরাই তাদের কষ্টার্জিত মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবে।’
আজ শনিবার বিকাল ৪ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সেমিনার কক্ষে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ক্যাডারস রিসেপশন অ্যান্ড গেট টুগেদার ২০২৬’ অনুষ্ঠানে বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি ও মেধার গুরুত্ব তুলে ধরে উপাচার্য বলেছেন, ‘বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষায় যোগ্যতা ও মেধার কোনো বিকল্প নেই। পরীক্ষার্থীর বাড়ি কোথায় কিংবা তিনি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন— এসব বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই। পরীক্ষায় নিজের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শেকৃবিতে প্রথমবারের মতো ৪৫তম থেকে ৪৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও গেট টুগেদার উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ‘অনারিং দ্যা বিসিএস ক্যাডারস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুপারিশপ্রাপ্ত ৮০ জন ক্যাডার, তাদের অভিভাবক ও অতিথিসহ প্রায় ১০০ জন অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ক্যাডারদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিচিতি পর্ব, অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশ্নোত্তর ও ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেশনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহেদুর রহমান, শেকৃবির এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী এবং টিএসসির পরিচালক অধ্যাপক মো. আক্তার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশাবুল হক।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত শেকৃবির সাবেক শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয় দেন, অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় ক্যাডাররা নিজেদের মধ্যে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। সাম্প্রতিক ৪৭তম বিসিএসে লাইভস্টক ক্যাডারে কোডসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ইন্টার্যাকটিভ সেশন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীরা বিসিএস পরীক্ষা ও ক্যাডার হওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান। সাবেক ক্যাডাররা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে বিসিএস প্রস্তুতি, লিখিত পরীক্ষা, ভাইভা এবং ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন বিষয়ে বর্তমান শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন।
আয়োজকদের অন্যতম তরিকুল ইসলাম সৈকত বললেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিসিএস ক্যাডারদের সম্মাননা দেওয়ার এ ধরনের আয়োজন থাকলেও শেকৃবিতে এর প্রচলন ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিএসসির পরিচালক অধ্যাপক মো. আক্তার হোসেনের অনুপ্রেরণায় তারা এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সাহস পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বিক ও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছে উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





