প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

প্রতীকী ছবি
১৬ বছরের বিরতির পর আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। পার্বত্য অঞ্চলের ৩ জেলা বাদে দেশের মোট ৬১ জেলায় আজ একযোগে পরীক্ষা শুরু হবে।
মূলত ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৬ সালে। ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ পরীক্ষা। সূচি অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল বাংলা, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা। পরীক্ষা নেওয়া হবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
তবে বৈসাবি উৎসবের কারণে পরীক্ষা দুই দিন পিছিয়ে শুরু হবে পার্বত্য তিন জেলা— রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে। ওই জেলাগুলোতে ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত, ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে ইংরেজি পরীক্ষা। এক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হবে না পরীক্ষার সময়ে।
বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ নম্বরের জন্য পরীক্ষার্থীরা সময় পাবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে এবং সময় থাকবে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য সময় বরাদ্দ থাকবে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট। বৃত্তি পাওয়ার জন্য প্রতিটি বিষয়ে একজন শিক্ষার্থীকে নম্বর পেতে হবে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ।
ইতোমধ্যে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের বৃত্তি প্রদান করা হবে — ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ। উভয় ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ নির্বাচিত হবেন ছাত্রী। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ সংরক্ষিত থাকবে বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য।
তাছাড়া নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো:
১. প্রবেশপত্রসহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হবে পরীক্ষার্থীকে। প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না কেউ।
২. পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র ছাড়া সঙ্গে আনা যাবে না অন্য কোনও অননুমোদিত কাগজপত্র, ক্যালকুলেটর, মোবাইল ফোন বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
৩. উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার (ওএমআর) নির্ধারিত স্থানে নাম, বিষয় কোড ও রোল নম্বর ছাড়া লেখা যাবে না অন্য কিছু।
৪. উত্তরপত্রে অবশ্যই থাকতে হবে ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর। অন্যথায় বাতিল বলে গণ্য হবে উত্তরপত্র।
৫. উত্তরপত্রের ভেতর বা বাইরে লেখা যাবে না পরীক্ষার্থীর নাম, ঠিকানা, রোল নম্বর। লেখা যাবে না কোনও সাংকেতিক চিহ্ন বা অপ্রয়োজনীয়/আপত্তিকর কোনও কিছু।
৬. খসড়ার জন্য দেওয়া হবে না অতিরিক্ত কাগজ। প্রদত্ত উত্তরপত্রেই করতে হবে খসড়ার কাজ। পরে তা যথাযথভাবে কেটে দিতে হবে।
৭. প্রদত্ত উত্তরপত্র ছাড়া টেবিল, স্কেল, নিজ দেহ বা অন্য কোথাও কিছু লেখা যাবে না।
৮. প্রশ্নপত্র বিতরণের পর এক ঘণ্টা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা হলের বাইরে যেতে পারবে না কোনও পরীক্ষার্থী।
৯. পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্তব্যরত ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়ে ত্যাগ করতে হবে পরীক্ষার হল।
১০. এছাড়া অনুসরণ করতে হবে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য সকল নিয়মাবলী।
পরীক্ষা চলাকালে আচরণ নির্দেশিকা
* একে অন্যের সঙ্গে কথা বলা যাবে না পরীক্ষার হলে।
* প্রশ্নপত্র বা অন্য কোনও মাধ্যমে কিছু লিখে অন্য পরীক্ষার্থীর সঙ্গে বিনিময় করা যাবে না।
* প্রশ্নপত্র ছাড়া অন্য কোনও কাগজপত্র বা অন্যের উত্তরপত্র দেখে লেখা যাবে না বা অন্যকে দেখানোর কাজে সহযোগিতা করা যাবে না।
* উত্তরপত্র ইনভিজিলেটরের কাছে দাখিল না করে উত্তরপত্রসহ পরীক্ষার হল ত্যাগ করা যাবে না।
* উত্তরপত্রের পৃষ্ঠা পরিবর্তন ও বিনষ্ট করা যাবে না।

