অনন্য ভূমিকায় জাবি
- কোটা আন্দোলন থেকে সরকার পতন— প্রতিটি বাঁকে ছিল দৃশ্যমান উপস্থিতি

জাবি, ৫ আগস্ট-২০২৪
কোটা সংস্কার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে যখন সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, তখন দেশের অন্যতম প্রধান প্রতিরোধ কেন্দ্রে পরিণত হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে ৩৬ দিনের আন্দোলনে জাবি হয়ে ওঠে নেতৃত্ব, প্রতিরোধ ও সাহসের প্রতীক।
এই নেতৃত্বের সূচনা হয়েছিল আন্দোলনের সাংগঠনিক ভিত্তি নির্মাণের মধ্য দিয়েই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন— দেশ জুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠা এই নামটিরও জন্ম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীদের আলোচনায় নামটি প্রস্তাব করা হয়। পরে ৪ জুলাই আরিফ সোহেলকে আহ্বায়ক এবং মাহফুজ ইসলাম মেঘকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন করা হয়। এর তিন দিন পর, ৭ জুলাই ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ঘোষণার নির্ধারিত সময়ের আগেই জাবির শিক্ষার্থীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সেটিই ছিল আন্দোলনের প্রথম মহাসড়ক অবরোধ, যা পরে দেশব্যাপী কর্মসূচির রূপ নেয়।
তবে আন্দোলনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে। ১৫ জুলাই রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ও বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ জুলাই প্রথম প্রহরেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাত্রলীগমুক্ত হয়।
১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট হল ভ্যাকেন্ট ঘোষণা করলে ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করে। এরপর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ছররা গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাসের শেল ব্যবহার করেও থামানো যায়নি আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিলে আন্দোলনের ভৌগোলিক পরিধি ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ইসলামনগর, গেরুয়া ও আমবাগান এলাকায় আশ্রয় নিয়ে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যান।
কারফিউ উপেক্ষা করে ২০ জুলাই শিক্ষার্থীরা আবারও রাজপথে নামেন। সেদিন তারা দেশে প্রথম জুলাই শহীদদের স্মরণে ‘অদম্য-২৪’ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রতীকী এই উদ্যোগ শুধু শোক প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও প্রতিরোধের অঙ্গীকারকেও সামনে নিয়ে আসে।






