জাবিতে রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টার

ছবি: আগামীর সময়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ও সংলগ্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার নামে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। রাতের আঁধারে সাঁটানো এসব পোস্টারকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে, কর্মচারীদের জন্য নবনির্মিত আবাসিক টাওয়ারের সংলগ্ন এলাকায়, প্রান্তিক গেইট এলাকার বৈদ্যুতিক খুঁটিতে এবং বিশমাইল গেইট এলাকার যাত্রী ছাউনিসহ বেশ কিছু জনাকীর্ণ স্থানে এই পোস্টারগুলো টাঙানো হয়েছে।
পোস্টারগুলোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল রানার নাম ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ রয়েছে।
সেখানে লেখা রয়েছে- ‘গোপালগঞ্জ গণহত্যার ১ বছর পূর্তি’, ‘এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগের উপর গণহত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত চাই, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই’, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রহসনের রায় অনতিবিলম্বে বাতিক করতে হবে, সকল মিথ্যা মামলা পরিহার করতে হবে’।
জাবি প্রশাসনের ব্যর্থতা ও পূর্ববর্তী নমনীয় সিদ্ধান্তের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগকে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না, যেখানে ছাত্রলীগের রাজনীতি সারা দেশেই নিষিদ্ধ। এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নানা জায়গায় ছাত্রলীগের এই ধরনের পোস্টারিং খুবই উদ্বেগজনক।
তিনি মনে করছেন, এখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পোস্টার সাঁটানোর সুযোগ পেয়েছে মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা প্রহসনের বিচারের কারণে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হত্যাচেষ্টার বিপরীতে হামলাকারী ছাত্রলীগ বা হামলায় মদদদাতা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নামমাত্র বিচার হয়েছে। যার ফলে নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই ধরনের কাজ করার সাহস পাচ্ছে।
শাখা ছাত্রদলের জাবি সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক বলছেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনও সংগঠনের রাজনীতি করার সুযোগ নাই। ছাত্রলীগ কীভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর গণরুম, গেস্টরুম কালচারের মাধ্যমে অত্যাচার করত আমরা দেখেছি।
প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে এখনো ফ্যাসিস্টের দোসররা বসে আছে। তারাই ছাত্রলীগকে সকল খবর জানিয়ে দিচ্ছে। তাই ছাত্রলীগ রাতের আঁধারে এরকম তৎপরতা করার সুযোগ পাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলছেন, আমার বিভিন্ন সময়ে পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়গুলো জানিয়েছি কিন্তু তারা এদের ট্রেস করতে পারছেন না। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।





