স্পিকার
‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখবে ইউএস ট্রেড শো’
- বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র- ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ফাইল ছবি
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে ৩০তম ইউএস ট্রেড শো।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিলাসবহুল ৫-তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এই আয়োজন করেছে, যা চলবে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত এ প্রদর্শনী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে ওঠেছে। ইউএস ট্রেড শোর মতো আয়োজন দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বললেন, বাংলাদেশ এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা ব্যবসার নতুন সুযোগ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা জোরদারে মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বললেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ইউএস ট্রেড শো দুই দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার প্রতিফলন।
‘আমরা বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী’, যোগ করেন রাষ্ট্রদূত।
অ্যামচেম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেছেন, তিন দশক ধরে ইউএস ট্রেড শো মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারের সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এবারের আয়োজনের মাধ্যমে অ্যামচেম অর্থবহ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি, নতুন অংশীদারত্বকে উৎসাহ প্রদান এবং দুই দেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
প্রদর্শনী ও প্রযুক্তি
৩০তম এই ট্রেড শোতে বিভিন্ন খাতের মার্কিন পণ্য, সেবা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটেছে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিশ্বমানের পণ্য ও নতুন উদ্ভাবন সম্পর্কে জানার পাশাপাশি মতবিনিময় এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়াও প্রদর্শনীর পাশাপাশি অর্থনীতি ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক সেমিনার ও আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রযুক্তি, নারী নেতৃত্ব, বিদেশে বিনিয়োগ, পারস্পরিক বাণিজ্য এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও ডিজিটাল অর্থনীতি।
এসব অধিবেশনে নীতিনির্ধারক, শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ী নেতা তাদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার পাশাপাশি সহযোগিতার ভিত্তিতে নতুন সুযোগ তৈরির উপায় নিয়ে আলোকপাত করছেন।




