পুঁজি ও কূটনীতির সমন্বয়ে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য
- ‘দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ’-এ সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সরকারের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের উপস্থিতিতে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস ও উন্নয়ন সহযোগী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১৩ জুন অনুষ্ঠিত ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি কনফারেন্স ২০২৬’-এর ধারাবাহিকতায় এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। আলোচনার শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ে তুলতে বৈদেশিক বিনিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বললেন, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, স্থিতিশীল দীর্ঘমেয়াদি কর কাঠামো এবং অনাদায়ী ঋণ শনাক্তে ফরেনসিক আর্থিক নিরীক্ষার ভিত্তিতে একটি সার্বিক পুনঃমূলধনীকরণ পরিকল্পনাকে নিয়মভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তোলার কারিগরি ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গোলটেবিল বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিবসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, এসএমই ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন বিদেশি মিশন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস, ব্রিটিশ হাইকমিশন, কানাডিয়ান হাইকমিশন, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), ইউএনওপিএস, ইউএনডিপি, ইউনেস্কো, জিআইজেড বাংলাদেশ, ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ, আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং পিপিডির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণে এ ধরনের সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সরকার, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সংস্থা, দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তারা ঐকমত্য প্রকাশ করেন। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণকে সামনে রেখে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের কৌশলগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে অংশীদার-সমন্বিত অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও বৈঠকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।




