চাকরিচ্যুতদের দাবি পুনর্বহাল ডিএসই বলছে আইন মেনেই সিদ্ধান্ত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ১৭ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকরিচ্যুতির ঘটনা কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আলোচনা। একদিকে চাকরিচ্যুতরা চাকরিতে পুনর্বহাল ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন, অন্যদিকে ডিএসই কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে এ সিদ্ধান্ত।
চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল ও ন্যায়বিচারের দাবিতে গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর পুরনো ভবনের সামনে মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ডিএসইর সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক হোসনে আরা পারভীন অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের আগাম আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ তাকে চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এটিকে ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন। আবার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়েছে, এটি ডিএসইর অভ্যন্তরীণ বিষয়।
মানববন্ধনে ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ বললেন, সহকর্মীদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। এর প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, অর্থ সচিব ও বিএসইসির কাছে আবেদন করা হয়েছে। ১৭ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং আরও ১৪০ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ধাপে ধাপে ওই ব্যক্তিদেরও চাকরিচ্যুত করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্যমান কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিকালেই ডিএসইর উপমহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। ডিএসই জানায়, ২০২২ সাল থেকে চলমান দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক রূপান্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ৩৫০ জন কর্মীর মধ্যে ১৭ জনের চাকরি অবসান করা হয়েছে, যা মোট জনবলের ৫ শতাংশেরও কম।
কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এ সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা, ভবিষ্যৎ প্রয়োজন ও ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৬ এবং ডিএসইর সার্ভিস রুল মেনেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী চার মাসের বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান থাকলেও মানবিক দিক বিবেচনায় বিদায়ী কর্মীদের অতিরিক্ত দুই মাসসহ মোট ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যথাযথভাবে পরিশোধ করা হবে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অব্যবহৃত ছুটির অর্থসহ অন্যান্য পাওনা।






