চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে শ্রিম্প ইকোনমিক জোনের নতুন পরিকল্পনা

সংগৃহীত ছবি
দেশের চিংড়ি খাতের রপ্তানি সম্প্রসারণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘শ্রিম্প ইকোনমিক জোন’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উঠেছে। এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে ঢাকায় এক সভা করেছে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
সভায় জানানো হয়, দেশের মৎস্য খাতে চিংড়ি এখনো প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে হিমায়িত মাছ ও চিংড়ি খাতের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৬ শতাংশ এসেছে চিংড়ি থেকে। এ সময়ে চিংড়ি রপ্তানি ১৯ শতাংশ বেড়ে ২৯৬ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে মোট খাতের রপ্তানি আয় ছিল ৩৮৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।
সভায় মূল উপস্থাপনায় মিডার নির্বাহী সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক উল্লেখ করেন, প্রচলিত চাষাবাদ থেকে সরে এসে নিয়ন্ত্রিত ইনডোর ও ইনটেনসিভ অ্যাকুয়াকালচারে যেতে হবে। কাঁচামাল রপ্তানির বদলে ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য ও ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রতি কেজি চিংড়িতে আয় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
প্রস্তাবিত শ্রিম্প ইকোনমিক জোনে হ্যাচারি, ফিড মিল, ল্যাবরেটরি ও ফার্ম একসঙ্গে থাকবে এবং কঠোর বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে। সেখানে নিয়ন্ত্রিত ভ্যানামেই চাষের অনুমতির কথাও বলা হয়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মান অনুযায়ী রিয়েল টাইম মনিটরিং ও পূর্ণ ই ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫ শতাংশের বেশি সারভাইভাল রেট এবং বছরে তিনটি উৎপাদন চক্র।
আশিক চৌধুরী বলেন, সরকার চিংড়ি খাত পুনরুজ্জীবনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত সুপারিশ তৈরি করে সরকারকে দেওয়া হবে, যাতে এই খাতকে এক বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পর্যায়ে নেওয়া যায়।
সভায় শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত জোনের প্রতি সমর্থন জানান। খুলনা, মহেশখালী, কক্সবাজার ও সাতক্ষীরা সম্ভাব্য স্থান হিসেবে আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে ভ্যালু অ্যাডেড শিল্প, এসপিএফ হ্যাচারি, ফিড মিল এবং নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।



