বকেয়া ঋণের কিস্তি বন্ধ করল আইএমএফ

সংগৃহীত ছবি
বিগত সরকারের আমলে করা ঋণ সমঝোতা বা বিদ্যমান কর্মসূচির পুরোনো কাঠামো ধরে নিয়ে আর সামনে এগোনোর কোনো আইনি ও কৌশলগত সুযোগ নেই বলে জানিয়েয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আর এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার কথা। অর্থাৎ, দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বকেয়া ঋণের কিস্তি।
আইএমএফের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক জুলি কোজাক বৈশ্বিক গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান এসব কথা।
এর আগে গত বুধবার আইএমএফের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আগের ঋণ কর্মসূচি থেকে বের হয়ে এসে নতুন কর্মসূচির আওতায় ঋণ চায় বাংলাদেশ। সেই চিঠি পাঠানোর পরদিনই আইএমএফের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এল।
জুলি কোজাক বলেছেন, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবেশে যেহেতু আমূল পরিবর্তন এসেছে, তাই পুরোনো শর্ত বা রূপরেখা বহাল না রেখে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রশাসনের সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন একটি অর্থায়ন কর্মসূচি দ্রুত আলোচনা শুরু করা হয়ে পড়েছে জরুরি।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আর্থিক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি বা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে এখনও অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা বাকি রয়েছে। তবে আইএমএফ এখনই বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছে না, বরং ভবিষ্যতে এই সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে যৌথভাবে কাজ করার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।’
আইএমএফ সবসময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়, উল্লেখ করলেন জুলি। সেইসঙ্গে বললেন, খুব শিগগিরই ঢাকায় আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের নতুন মিশন বা প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে। নতুন সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় আসন্ন দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এই অগ্রাধিকারমূলক সংস্কারের বিষয়গুলোই থাকবে মূল এজেন্ডা হিসেবে।




