সূচকের সঙ্গে কমেছে লেনদেন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গত সপ্তাহের ধারবাহিকতায় রোববার সূচকের সঙ্গে লেনদেনেও নেতিবাচক প্রবণতায় দিন শেষ হয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। ধারাবাহিক পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আবার এই পতনকে স্বাভাবিক দরপতন বলছেন।
বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, “দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল এবং অর্থনীতিও পুনরুদ্ধারের দিকে এগোচ্ছে। ফলে বাজারে বড় ধসের মতো কোনো সংকট নেই। নতুন সরকার ও বর্তমান বিএসইসি কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে যে ইতিবাচক জোয়ার তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক পতনটি মূলত তারই একটি স্বাভাবিক হিসাব-নিকাশ ও 'প্রাইস কারেকশন'।”
অন্যদিকে শেয়ারবাজারে কেবল ব্যক্তিবদলে স্থায়ী পরিবর্তন আসে না উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন বললেন, “টেকসই গতি ফেরাতে হলে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রয়োজন। সম্প্রতি বাজারে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল, তাতে কম দামে কেনা শেয়ার থেকে অনেকে মুনাফা তুলে নেওয়া শুরু করায় বিক্রয়চাপ তৈরি হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতাও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে, যার কারণে অনেকে সাময়িকভাবে সাইডলাইনে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।”
এদিন ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়া ভিত্তিক পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসএস সূচক আগের দিন থেকে ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে স্থির হয়েছে। অন্যদিকে শীর্ষ ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে নেমেছে।
লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে। দর বেড়েছে ১১৬টির আর দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
রোববার দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, এম এল ডাইং, বিডি থাই ফুড এন্ড ব্যাভারেজ, আমার টেকনোলজিস, জিল বাংলা সুগার মিলস, ফ্যামেলি টেক্স, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রিলাইয়েন্স ইন্স্যুরেন্স এবং নূরানী ডাইং এন্ড সুয়েটার।
দর পতনের শীর্ষে রয়েছে সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামীক মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স, এএফসি এগ্রো বায়োটেক, একমি পেস্টি সাইডস, ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফাস্ট জনতা ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং পপুলার লাইফ ফাস্ট মিউচুয়্যাল ফান্ড।




