আস্থা ফিরছে শেয়াবাজারে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত বিএসইসি কমিশনের অধীনে বিভিন্ন নীতিগত সংস্কারের আশা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বাজারবান্ধব পদক্ষেপের প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মনে দারুণ উদ্দীপনা তৈরি করেছে। সপ্তাহের শুরুতে টানা দশ কার্যদিবসের মতো সূচক বাড়লেও মাঝামাঝি সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং বাজেট-পূর্ব সতর্কতা দেখা যায়। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে এসে আকর্ষণীয় মূল্যের শেয়ারগুলোর দিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা মনোনিবেশ করায় বাজার একটি স্থিতিশীল ও ইতিবাচক অবস্থানে থেকে সপ্তাহ শেষ করে।
এই সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ৪৫.৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক আট শতাংশ বেড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করেছে। সূচকের এই উত্থানের পাশাপাশি বাজারে লেনদেনের গতিও ছিল বেশ চাঙ্গা। গত সপ্তাহে ডিএসইতে গড় লেনদেনের পরিমাণ ১১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১ হাজার ২৮ কোটি ৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বাজার মূলধন দাঁড়ায় ৬ লাখ ৯০ হাজার ১০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে বাজার মূলধন ২ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা বা দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহটিতে ডিএসই-এর শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১১৪ পয়েন্টে এবং ২ হাজার ৭২ পয়েন্টে। সপ্তাহটিতে ডিএসইতে ৩৮৬ টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৩ টির, দর কমেছে ১৭৩ টির এবং ৩০ টির শেয়ার দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সপ্তাহ জুড়ে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ও সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে সাধারণ বীমা, প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে। খাতওয়ারি পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে দেখা যায়, গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি মুনাফা দিয়েছে সেবা ও আবাসন, সিরামিক এবং সাধারণ বীমা খাত। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে বিবিধ, ভ্রমণ ও অবকাশ এবং পাট খাত।
বিশেষ করে বিবিধ খাতে প্রায় ১১.৯ শতাংশের একটি বড় পতন দেখা গেছে, যার মূল কারণ ছিল এই খাতের অন্যতম শক্তিশালী শেয়ার বেক্সিমকোর অস্বাভাবিক মূল্যহ্রাস। একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে বেক্সিমকোর শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ প্রায় ২৭.১ শতাংশ কমেছে, যা পুরো খাতের সূচককে নিচের দিকে টেনে নামিয়েছে। এ ছাড়া টানা কয়েক কার্যদিবস সূচক বাড়ার পর সম্প্রতি দাম বৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারগুলো থেকে বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং বাজেট-পূর্ব সতর্কতাই এই খাতের বড় সংশোধনের পেছনের মূল কারণ।
একক কোম্পানি হিসেবে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পেয়ে শীর্ষ গেইনারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে শ্যামপুর সুগার, মার্চেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স এবং প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স। বিপরীতে বেক্সিমকোর পাশাপাশি শীর্ষ লুজারের তালিকায় রয়েছে পিএলএফএসএল এবং ফারইস্ট ফিন্যান্স। তবে বেক্সিমকোর বড় পতন সত্ত্বেও স্কয়ার ফার্মা, সায়হাম পোর্ট এবং গ্রামীণফোনের মতো বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সামগ্রিক সূচক ইতিবাচক অবস্থানে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।


