মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের মুনাফায় প্রবৃদ্ধি, লভ্যাংশ অপরিবর্তিত

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ অর্থবছরে (৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত) শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে।
কোম্পানিটির সদ্য প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যদিও শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে, কিন্তু লভ্যাংশ গত বছরের সমান থাকছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালেও কোম্পানিটি ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করে। লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৩ জুন ২০২৬ বেলা ১১টায় হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের জন্য রেকর্ড ডেট হিসেবে ১৭ মে ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদায়ী অর্থবছরে মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক পারফরম্যান্স ইতিবাচক ধারায় ছিল। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে ১.৩৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১.৩১ টাকা। একইভাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য আগের বছরের ১৪.২৬ থেকে বেড়ে ১৪.২৯ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ আগের ১.৯৫ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৫.৭১ টাকায় পৌঁছেছে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূলত প্রিমিয়াম আয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ থেকে আয় বাড়ার কারণেই তাদের ইপিএস ও নগদ প্রবাহে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এদিকে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়ে ০.৪৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ০.৩৮ টাকা। এ ছাড়া ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়ে ১৪.৭৯ টাকায় উন্নীত হয়েছে।
তবে মুনাফার ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকলেও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির নগদ প্রবাহে নেতিবাচক চাপ পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস দাঁড়িয়েছে ০.৭৬ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১.৯০ টাকা।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রিমিয়াম সংগ্রহের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নগদ প্রবাহে সাময়িক এই চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বছরজুড়ে শক্তিশালী আর্থিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও নতুন বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রিমিয়াম সংগ্রহের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন কোম্পানিটির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



