ডিএসইতে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন রবিবার

সংগৃহীত ছবি
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল রবিবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মতিঝিলে ডিএসইর পুরোনো ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। ডিএসইর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নিতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, ডিএসইতে সাম্প্রতিক জনবল ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের করপোরেট সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জনবল ছাঁটাই, নতুন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৃথক আবেদন করেছেন। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
ডিএসইর সাবেক ডিজিএম মো. আব্দুল লতিফ আগামীর সময়কে বলেছেন, বর্তমান প্রশাসনের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে ডিএসইর স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ এবং অন্যায্য চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে অবস্থান জানাতেই আগামীকাল রবিবার মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জের অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিয়ে এমন বিতর্ক শুধু প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে না, বরং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জানা গেছে, গত ২৫ জুন ডিএসইতে একযোগে চারজন উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম), দুইজন সিনিয়র ম্যানেজার এবং দুইজন ড্রাইভারকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর মধ্যে সাবেক তিন ডিজিএম—মো. আব্দুর রাজ্জাক, মো. শাহীন সারওয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল লতিফ গত ২৮ জুন বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে যৌথ আবেদন করেন। পরে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছেও আবেদন জানানো হয়।
বিএসইসিতে দেওয়া আবেদনে তারা অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গ, অদক্ষতা বা অসদাচরণের অভিযোগ ছাড়াই গত ২৫ জুন তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। অনুমোদিত কোনো পুনর্গঠন পরিকল্পনা বা সংশোধিত অর্গানোগ্রাম ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১২০ দিনের গ্রস বেতন দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল ত্যাগে বাধ্য করা এবং অফিসের ই-মেইল ও কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তারা এই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ এবং বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
অন্যদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই দশক ধরে ডিএসইতে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের কর্মদক্ষতা বা আচরণ নিয়ে কখনো কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু গত ২৫ জুন তাদেরকে জানানো হয়, তার পদের আর প্রয়োজন নেই। কোনো পূর্ব নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়, যা শ্রম আইন, চাকরির বিধিমালা এবং প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থি। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার পরিচালনাকারী একটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমন সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত।






