মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা নিয়ে ক্ষোভ, অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত সেমিনার। ছবি: সংগৃহীত
মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এ খাতের বিনিয়োগকারীরা। তাদের দাবি, বিধিমালাটি কার্যকর হলে দেশের ক্লোজড-অ্যান্ড (মেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ড খাতের পাশাপাশি সামগ্রিক পুঁজিবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে বিধিমালাটি পুনর্বিবেচনায় অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
আজ শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত এক সেমিনারে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এতে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।
সেমিনারে বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি ম. জহুরুল হক বলেছেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান আশ্বাস দিলেও বাস্তবে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বন্ধ ও রূপান্তরের উদ্যোগ থেমে নেই। তার অভিযোগ, কমিশনের একটি অংশ বাজারসংশ্লিষ্টদের আপত্তি উপেক্ষা করে বিধিমালাটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
‘বিনিয়োগকারীদের আবেদনের পর আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ দিলেও পরে তা প্রত্যাহার হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।’—যোগ করেন তিনি।
জহুরুল হক বলেছেন, ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫-এর ৬২(২) ধারা অনুযায়ী বাজারমূল্যের সঙ্গে প্রকৃত সম্পদমূল্যের তুলনা করে মেয়াদি ফান্ড অবসায়ন বা বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের বিধান বিশ্বের কোথাও প্রচলিত নয়। লেনদেনমূল্য কখনোই সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। প্রকৃত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন হওয়া উচিত ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ও ফেস ভ্যালুর ভিত্তিতে। এতে ভালো ও দুর্বল ফান্ড আলাদা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে।’
তিনি সতর্ক করেন, মেয়াদি ফান্ডগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে অবসায়ন বা বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর করা হলে বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের ক্লোজড-অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর অধীনে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে। এসব ফান্ড দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।
সেমিনারে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন বলেছেন, ‘মেয়াদি ফান্ডগুলোর সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হলে একসঙ্গে কয়েক হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করতে হবে। এতে বাজার সূচক বড় ধরনের পতনের মুখে পড়তে পারে। আতঙ্কজনিত বিক্রি শুরু হলে বাজারে মোট বিক্রির চাপ ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেছেন, ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ ও মার্জিন বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনা কিংবা বাতিল করা জরুরি। শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার স্বার্থে এসব নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।’
সেমিনারে মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্যফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক গণেশ রায় বলেছেন, ‘সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট একাই ফান্ড চালুর পর থেকে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে। এটি এই খাতের সক্ষমতার স্পষ্ট প্রমাণ।’
বিনিয়োগকারীরা জানান, ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাজারে স্থিতিশীল বিনিয়োগ কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। তাই বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় বিএসইসির সাম্প্রতিক নির্দেশনা বাতিল এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানান তারা।




