শেয়ারবাজার
১৮০ দিনের রোডম্যাপ

শেয়ারবাজারের ওপর আস্থা নেই— এ কথাটা এখন পুরনো। এই হারানো আস্থা ফেরাতে সুনির্দিষ্ট সময় বেঁধে কাজ শুরু করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়, নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার তিনটি লক্ষ্য পূরণ করে শেয়ারবাজারকে পরিণত করতে চায় বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গায়।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহযোগিতায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এই কর্মপরিকল্পনায় উঠে এসেছে তিনটি দিক— বিনিয়োগ বাড়ানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাজার সংস্কার করা। সরকার গঠনের পর থেকে এ তিন স্তরের ওপর ভিত্তি করেই রোডম্যাপটি দাঁড় করানো হচ্ছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, এটি শুধু পরিকল্পনা নয়, বরং বড় একটি পরীক্ষা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এসব পদক্ষেপ রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কর্মপরিকল্পনায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এজন্য বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও বিনিয়োগ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে প্রান্তিক বিনিয়োগকারীরা সহজে শেয়ারবাজারে অংশ নিতে পারেন।
প্রবাসীদের জন্যও বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘শেয়ারবাজারের উন্নয়নে রোডম্যাপ প্রণয়নের কাজ চলছে। শেয়ারবাজারে টাক্সফোর্সের কিছু সুপারিশ আছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি এ বিষয়ে অনেক চিন্তাভাবনা করছেন। প্রাথমিকভাবে কী কী করণীয়, তা আমরা নির্ধারণ করেছি।’
তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ শিক্ষায়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইন— দুই মাধ্যমেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে। শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এটি বাস্তবায়ন করবে। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী তরুণ উদ্যোক্তার সংখ্যা হবে অন্যতম ফলাফল নির্দেশক। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ ও সচেতন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়বে, যা বাজারের জন্য ইতিবাচক। শুধু বিনিয়োগ বাড়ালেই হবে না, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতার অভাব দূর করতেও জোর দেওয়া হয়েছে।
শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা স্বচ্ছতার অভাব। তাই এবার জোর দেওয়া হয়েছে এই জায়গায়। কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের দেওয়া হবে নিয়োগ।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. এম মাসরুর রিয়াজ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে একটা রোডম্যাপ দরকার। এটা আরও আগে করা উচিত ছিল। এটা আগে প্রণয়ন করা হলে বাজারের জন্য ভালো হতো। তবে রোডম্যাপ শুধু মার্কেট রিকোভারির জন্য তৈরি করলে হবে না। এটা দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন কীভাবে ডেভেলপ করবে এবং সেখানে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের ভূমিকা কী— সে বিবেচনায় রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।’
এই রোডম্যাপের আলোচিত অংশ হলো শেয়ারবাজার সংস্কার কমিশন গঠন, যা বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করবে। পাশাপাশি বলা হয়েছে গত ১৫ বছরে হওয়া নানা অনিয়ম তদন্তে একটি বিশেষ কমিশন গঠনের কথা।
সার্বিক বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কমিশনের ওপর যে দায়িত্ব রয়েছে, তা চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ৭০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। কারণ, ইশতেহার ঘোষণার আগেই কমিশন সেসব বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। আর যে ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। ইশতেহার অনুযায়ী রোডম্যাপ প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিতভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।’




