ইন্ট্রাকোর স্থায়ী সম্পদ খতিয়ে দেখবে বিএসইসি

ছবি: আগামীর সময়
দেশের শেয়ারবাজারে জ্বালানি খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসির আর্থিক প্রতিবেদনে স্থায়ী সম্পদের হিসাব ও উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই কোম্পানিটি এবং তার আরো তিনটি সহযোগী কোম্পানির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
এ লক্ষ্যে বেশকিছু শর্তসাপেক্ষে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গঠিত তদন্ত কমিটিকে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে বেশকিছু শর্তসাপেক্ষে এসংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তদন্তের বিষয়টি ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা আগামীর সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তের আওতায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলো হলো- এম. হাই অ্যান্ড কো. সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড, নেসা অ্যান্ড সন্স লিমিটেড এবং গুড সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড।
গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ফারুক হোসেন, সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক অমিত অধিকারী।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই তদন্তের মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। পাশাপাশি বাজারে শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এদিকে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে এম. হাই অ্যান্ড কো. সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড, নেসা অ্যান্ড সন্স লিমিটেড এবং গুড সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডের সঙ্গে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন (পেইড-আপ ক্যাপিটাল) বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করেছে। এর আগে গত ১২ মার্চ এই একীভূতকরণ স্কিমের ওপর তাদের আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র দেয় বিএসইসি।
বিএসইসির তদন্তের আদেশ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মনে করে, শেয়ারবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসির আর্থিক হিসাব, রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র তদন্ত করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এর ধারা ২১ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এর ধারা ১৭ক এর প্রদত্ত ক্ষমতা বলে বিএসইসির তিনজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। তদন্ত কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন এবং কমিশনের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
তদন্ত কমিটি যেসব বিষয় খতিয়ে দেখবে
বিশেষ করে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের স্থায়ী সম্পদের মূল্যায়ন, হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি এবং বাস্তব অবস্থার সঙ্গে কাগুজে হিসাবের মিল নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাই শুধু মূল কোম্পানি নয়, বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন খতিয়ে দেখবে গঠিত তদন্ত কমিটি। কোম্পানিটি আর্থিক প্রতিবেদনে প্রদর্শিত স্থায়ী সম্পদের মূল্যায়ন, হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি এবং বাস্তব অবস্থার সঙ্গে মিল রয়েছে কিনা সেটাও যাচাই করা হবে। এছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে কিনা এবং কোনো প্রকার অসঙ্গতি বা অনিয়ম রয়েছে কিনা, সেটাও খতিয়ে দেখবে গঠিত তদন্ত কমিটি।
সর্বশেষ আর্থিক অবস্থা
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১.৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য অর্থবছরে কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ০.৮৬ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ০.৮৮ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩.২৪ টাকা।
শেয়ার ধারণ পরিস্থিতি
ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০১৮ সালে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯৮ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার ৭৫০। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৩০.০৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২২.২০ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে ০.০৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৭.৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ১৭.৭০ টাকায়।



