শেয়ারবাজারে অস্থিরতার মধ্যে কমল বাজার মূলধন

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
বৈশ্বিক অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে টালমাটাল সময় পার করছে দেশের শেয়ারবাজার। এ প্রেক্ষাপটে টানা ওঠা-নামার মধ্যেই গত সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এই সময়ে বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে অস্থিতিশীল দেশের শেয়ারবাজার। একদিন সূচক বাড়লে দুই দিন কমছে। লেনদেনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। তবে দীর্ঘ দরপতনের কারণে বেড়েছে ভালো কোম্পানির শেয়ারের চাহিদা। কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সক্রিয় থাকায় ঘটছে না বড় ধরনের পতন। কিন্তু আস্থার সঙ্কটের কারণে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গোটা বাজারে। এই তালিকায় রয়েছে বড় মূলধনী বেশ কয়েকটি কোম্পানি। যার কারণে ঘটছে সূচকের নেতিবাচক পতন। এতেই কমছে বাজার মূলধন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসের মধ্যে মূল্যসূচক বেড়েছে তিন দিন, আর কমেছে দুই দিন। তবুও সার্বিকভাবে দাম বাড়ার তালিকায় ছিল বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠান। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৪২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টির।
বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর কমায় সামগ্রিক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। ফলে সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩১ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৩১ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে কমেছিল ৭৩৭ কোটি টাকা এবং তার আগের সপ্তাহে বড় পতন হয়ে কমে ১৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা।
বাজার মূলধনের পাশাপাশি মূল্যসূচকেও দেখা গেছে নিম্নমুখী প্রবণতা। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে ০.২ শতাংশ বা .৮৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫২৫৬ পয়েন্টে। যদিও এর আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ৩৭.৯৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৩ শতাংশ। তার আগের সপ্তাহে সূচকটি কমেছিল ১৪৮.৬৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, বড় মূলধনী কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও কমেছে ১১.৯৮ পয়েন্ট বা ০.৬০ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এই সূচক বাড়লেও তার আগের সপ্তাহে হয়েছিল বড় পতন।
সব পতনের মধ্যেও ব্যতিক্রম ছিল শরিয়াভিত্তিক সূচক। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক পরিচালিত কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৩.২৬ পয়েন্ট বা ০.৩১ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও পণ্যের দামে অনিশ্চয়তা, ডলার সংকট, উচ্চ সুদের হার, ব্যাংকিং খাতের তারল্য চাপ এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা—সব মিলিয়ে চাপ তৈরি হচ্ছে বাজারে। এর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ এবং বড় মূলধনী শেয়ারে বিক্রির চাপ বাজার মূলধন কমার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ডিএসইতে সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে খান ব্রাদার্স পিপি ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে ৩৬ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে কোম্পানিটির, যা ছিল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৪.৪৩ শতাংশ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার, যা ছিল ডিএসইর লেনদেনের ৩.৪৯ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা একমি পেস্টিসাইডসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকার, যা ছিল ডিএসইর লেনদেনের ৩.১১ শতাংশ।
লেনদেনের তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- তাওফিকা ফুড লাভেলো আইসক্রিমের ১৮ কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ডমিনেজ স্টিলের ১৭ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা, কেডিএস এক্সেসরিজের ১২ কোটি ৬৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা, গোল্ডেন সনের ১১ কোটি ৮২ লাখ টাকা, মীর আখতার হোসাইনের ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

