শেয়ারবাজারে বড় পতন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের বড় পতনের মধ্যে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারের লেনদেন শেষ হয়েছে। নতুন কমিশন গঠনের পর আজকেই সব থেকে বেশি সূচকের পতন হয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে হতাশা থাকলেও বাজার সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এই পতনকে স্বাভাবিক মূল্যসংশোধন বলছেন।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জর (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াভিত্তিক তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে স্থির হয়েছে। ভালো মৌল ভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে থেমেছে।
সবকটি সূচকের পতনের ফলে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গত দুই কার্যদিবস মিলে ডিএসই এক্স সূচকের পতন হয়েছে ৯৪ পয়েন্ট। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এর আগে এক সপ্তাহ ঊর্ধ্বমূখী ছিলো বাজার তার পরেও সূচকের এতটা বৃদ্ধি ছিল না।
রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ এক যুগের বেশি শেয়ারবাজাররে বিনিয়োগ করছেন। তিনি বলছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের আশ্বাস বাণী শুনে আমরা আবার শেয়ারবাজারে ফিরতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি আমাদের হতাশ করছে। নতুন কমিশন গঠনের পর বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও আবার যে পতন ঘটল তাতে পুঁজি নিয়ে বাজার থেকে বের হওয়ায় আমাদের কঠিন হয়ে পড়বে। আমাদের আশঙ্কা বাজারে কারসাজি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে, দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার পরও শেয়ারবাজারে সাম্প্রতিক দরপতনকে একটি 'স্বাভাবিক মূল্য সমন্বয়' হিসেবে দেখছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তার মতে, বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটার মতো কোনো নেতিবাচক ঘটনা ঘটেনি।
সভাপতি সাইফুল ইসলামের মতে, বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে এবং দেশের অর্থনীতিও আগের চেয়ে ধীরে ধীরে ভালো করছে। এই মুহূর্তে বাজারে দরপতন ঘটার মতো কোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক বড় সংকট তৈরি হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতি উদ্ধারে নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান কমিশন শেয়ারবাজার, সার্বিক বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আন্তরিক।
সাইফুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শেয়ারবাজারে সূচক এবং লেনদেন— উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক গতি দেখা গেছে। ফলে সাম্প্রতিক এই দরপতনকে কোনো সংকট না ভেবে স্বাভাবিক হিসাব-নিকাশের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
পতনের বাজারে ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে। দিন শেষে ৩১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে। দর বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ৫৯টি প্রতিষ্ঠানের। আর দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। লেনদেনে দেখা দিয়েছে ভাটা। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ২১১ কোটি টাকা।
পতনের বাজারে যে প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের দর বৃদ্ধি হয়েছে তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ফ্যামেলি টেক্স, তুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, নূরানী ডাইং, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল।
দর পতনের শীর্ষে রয়েছে শ্যামপুর সুগার মিলস, উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি, রেনউইক জগ্মেকসর অ্যান্ড কোং, বেস্ট হোল্ডিং, সিএপিএম আবিবিএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফাস্ট বাংলাদেশ ফাস্ট ইনকাম ফান্ড।




