ফেঁসে যাচ্ছেন তারেক রশিদ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ড ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষায় বিভিন্ন অনিয়ম এবং বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দোহা জামান কবির রশিদ অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের এঙ্গেজমেন্ট পার্টনার তারেক রশিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলকে (এফআরসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
সম্প্রতি এ বিষয়ে এফআরসি চেয়ারম্যানের কাছে বিএসইসি একটি চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।
জানা গেছে, মিউচুয়াল ফান্ডটির আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষায়, বিশেষ করে টানা ছয় বছর এএফসি হেলথ থেকে কোনো লভ্যাংশ বা মুনাফা না পাওয়ার পরও বিনিয়োগের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ না করা, ২০২২ সালের আর্থিক বিবরণীতে এ বিষয়ে নিরীক্ষকের কোনো আপত্তি না তোলা, ২০২৩ সালে হঠাৎ করে ৯৯ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুসরণ না করার বিষয়গুলো নজরে এসেছে বিএসইসির।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেছেন, ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের আর্থিক বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা কার্যক্রমে কিছু অসংগতি কমিশনের নজরে এসেছে। বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য এফআরসির কাছে পাঠানো হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে নেওয়া হবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা।
বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের এএফসি হেলথে বিনিয়োগের বিপরীতে যথাযথ সঞ্চিতি সংরক্ষণ না করা এবং পরে হঠাৎ বড় অঙ্কের প্রভিশন দেখানোয় নিরীক্ষকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। দোহা জামান কবির রশিদ অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের অংশীদার তারেক রশিদ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ও ২০২৩ সমাপ্ত বছরের জন্য ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের এঙ্গেজমেন্ট পার্টনার (সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিএসইসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১-এর ষষ্ঠ তফসিলের দফা ২-এর উপ-দফা (গ) ও (ঘ)-এ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ সমাপ্ত বছরের ফান্ডটির বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে এএফসি হেলথে বিনিয়োগের ন্যায্যমূল্য (ফেয়ার ভ্যালু) সম্পর্কে কোনো উল্লেখ করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে চিঠিতে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এএফসি হেলথে বিনিয়োগের পর থেকে টানা ছয় বছর কোনো লভ্যাংশ না পেলেও ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিপরীতে কোনো সঞ্চিতি সংরক্ষণ করেনি। বিস্ময়করভাবে, এ অনিয়মের বিষয়ে নিরীক্ষক কোনো আপত্তি জানাননি এবং ২০২২ সালের আর্থিক বিবরণীর ‘ইমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ অনুচ্ছেদেও কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের আর্থিক বিবরণীতে হঠাৎ করেই কোনো যৌক্তিক ভিত্তি ছাড়াই প্রিমিয়ামসহ অভিহিত মূল্যের বিপরীতে ৯৯ শতাংশ প্রভিশন দেখানো হয়েছে। এত বড় প্রভিশন সংরক্ষণের বিষয়ে কোনো যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন নিরীক্ষক।
বিএসইসি মনে করছে, সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার ষষ্ঠ তফসিলের দফা ২-এর উপদফা (গ) ও (ঘ) লঙ্ঘন করেছেন। এ কারণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ রুলস, ২০২০-এর বিধি ১৪(৫) অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে এফআরসিকে।
একই সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২-২৩ সমাপ্ত বছরের ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স ফান্ড ওয়ানের বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী এবং সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১-এর ষষ্ঠ তফসিলের দফা ২-এর সংশ্লিষ্ট উপদফা (গ) ও (ঘ) পর্যালোচনার জন্য এফআরসিকে জানিয়েছে কমিশন।




