বিশেষায়িত রাসায়নিক জোন চান ব্যবসায়ীরা

সংগৃহীত ছবি
বর্তমানে দেশের শিল্পকারখানায় প্রায় আড়াই হাজার ধরনের রাসায়নিক পণ্য ব্যবহার করা হয়। এর ৮০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে কাঁচামালে শুল্ক সুবিধাসহ বিভিন্ন নীতিসহায়তার দাবি জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত সেমিনারে এ কথা বলেছেন বক্তারা। ‘রাসায়নিক পণ্যনির্ভর রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
অনুষ্ঠানের মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন এসআর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রব্বানী। তিনি জানালেন, দেশে রাসায়নিক পণ্যের বাজার প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের। এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি করতে হয়েছিল ৬ বিলিয়ন ডলারের। অর্থাৎ চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানিনির্ভর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের পরিচালক মো. সেলিম উল্লাহ বললেন, ‘এ খাতের বিদ্যমান নীতির সংস্কার নাকি নতুন নীতি প্রয়োজন— সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনারা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেন, আমরা সেটা নিয়ে কাজ করব।’
সভাপতির বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, রাসায়নিক পণ্যের বাজার খাতের একটি পথনকশা তৈরি করে আমরা সরকারের কাছে পৌঁছে দেব। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে জমা দেব। তিনি একটি শক্তিশালী পশ্চাৎ সংযোগ খাত তৈরিতে সমন্বিত কাজের ওপর জোর দেন।
সেমিনারে জানানো হয়, দেশে একটি আধুনিক বিশেষায়িত কেমিক্যাল অর্থনৈতিক অঞ্চল বা কেমিক্যাল এসইজেড গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় কেমিক্যাল উৎপাদন ব্যয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতে সক্ষমতা ৬০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, যা দেশের পুরো রপ্তানি খাতকে বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
বক্তারা জানালেন, আধুনিক কেমিক্যাল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় উৎপাদন ব্যয় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে রাসায়নিকের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সক্ষমতা ৬০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং রপ্তানিশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
সেমিনারে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ওষুধ ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে একটি শক্তিশালী কেমিক্যাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।




