২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেছেন, যথাযথ নীতিগত সহায়তা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।
আজ বৃহস্পতিবার পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রণোদনা: টেকসই জ্বালানি-ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ভিত্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলছিলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এখন বাংলাদেশের জন্য শুধু জলবায়ু বা পরিবেশগত প্রয়োজন নয়; এটি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও অপরিহার্য।
তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের তৈরি পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং বাজেটে ঘোষিত প্রণোদনাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর সহ-আহ্বায়ক এম. এস. সিদ্দিকী বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বেসরকারি খাত ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেলকে আরও উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি পরিবেশগত সুবিধাগুলোর অর্থনৈতিক মূল্যায়ন, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে বাধা দূরীকরণ এবং যুবসমাজ ও নাগরিকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)-এর লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম। তিনি বললেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ৩৪ শতাংশ। একই সময়ে দেশের জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। যা জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
তার ভাষ্য, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭ এ সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও কর ছাড়ের প্রস্তাব এ খাতের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। রুফটপ সোলার স্থাপনের ব্যয় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াবে বলে আশা করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে রুফটপ সোলারের সম্প্রসারণ আমদানিনির্ভর জ্বালানির ব্যবহার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশেও সঠিক নীতি সহায়তা, বিনিয়োগ সুবিধা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তবে এ জন্য রেসকো মডেলের অর্থায়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ, মানসম্মত স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি।
ধরার সদস্য সচিব শরীফ জামিলে ভাষ্য, সরকারের ইতিবাচক মনোভাব, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি অব্যবহৃত সরকারি জমিতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, বুয়েটের অধ্যাপক (অব.) ড. ইজাজ হোসেন, স্রেডার পরিচালক (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. সাকিব বিন আমিন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (জ্বালানি ও পরিবেশ) তানজিনা দিলশাদ এবং জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।




