নজরদারিতে সিটি ইন্স্যুরেন্সের সন্দেহজনক লেনদেন

তালিকাভুক্ত সিটি ইন্স্যুরেন্স পিএলসির শেয়ারের দাম ও লেনদেন অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে কমিশনে।
সম্প্রতি কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) ছাড়াই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। গত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৫৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
তথ্যমতে, গত ৬ জানুয়ারি সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম ছিল ৮৩ দশমিক ৭০ টাকা, যা ৫ অক্টোবর বেড়ে দাঁড়ায় ১৩২ দশমিক ৭০ টাকায়। ৯ মাসের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি দর ৪৯ টাকা বাড়ার পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি না— তা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে এর আগে মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই থেকে কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম বাড়া এবং লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করে কমিশন। বিষয়টি স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না। তাই এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ডিএসইকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ও লেনদেন বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে নেওয়া হবে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
বিএসইসির নির্দেশনায় তদন্তের বেশ কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ আদেশ জারির তারিখ পর্যন্ত সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন তদন্তের আওতায় আসবে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো সমন্বিত কারসাজিমূলক লেনদেন হয়েছে কি না— অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না এবং স্টক ব্রোকার, ডিলার ও তাদের প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস এবং কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনেছেন কি না। পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে মধ্যস্থতাকারীদের কোনো ব্যর্থতা বা দায় রয়েছে কি না এবং সিকিউরিটিজ আইনের অন্য কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কি না— তা খতিয়ে দেখা হবে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও দেওয়া হয়েছে নির্দেশনা। বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘন।



