বেসরকারিতে ৫০০ টাকার চারা সরকারিতে ৬০!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সাধের ছাদবাগান কিংবা বাড়ির আঙিনায় দুটো ফলের গাছ লাগানোর শখ এখন অনেকেরই। কিন্তু কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগো বা সূর্যডিমের মতো সাড়া জাগানো বিদেশি উন্নত জাতের একটি আমের কলম কিনতে গেলেই বেসরকারি নার্সারিতে ৪৫০-৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয় ক্রেতাদের। অথচ চড়া দামের এই বাজারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকারি হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতেই এসব উন্নত ও বিদেশি জাতের আমের কলম পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬০ টাকায়! কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, বেসরকারি নার্সারির হাজার টাকার এই কাঙ্ক্ষিত চারাগুলোই এখন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিচ্ছে সরকার।
সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইং নতুন অর্থবছরের জন্য চারা, কলম, বীজ ও হর্টিকালচার সামগ্রীর বিক্রয়মূল্য নতুন করে নির্ধারণ করেছে, যা চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে দেশ জুড়ে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন সরকারি তালিকায় দামের যে চিত্র দেখা গেছে, তা যেকোনো বাগানপ্রেমী বা সাধারণ ক্রেতার জন্য এক দারুণ সুখবর।
বর্তমানে হর্টিকালচার সেন্টারগুলোয় কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগো, সূর্যডিম কিংবা ব্রুনাই কিংসের মতো তুমুল জনপ্রিয় ও দামি সব বিদেশি আমের কলম চারা পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬০ টাকায়! যেখানে সাধারণ নার্সারিতে এই চারাগুলোর জন্য কয়েকশ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত হাঁকা হয়। শুধু আম নয়, লিচু বা তেঁতুলের কলম মিলছে মাত্র ৬০ টাকায়, আর সফেদা ও সাতকরার কলম পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ টাকায়। মাল্টা, কমলা ও বাতাবি লেবুর মতো ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ ফলের কলম কিনতে পকেট থেকে খসবে মাত্র ৪০, আর পেয়ারা বা কুলের কলম মিলছে মাত্র ৩০ টাকায়।
এই মূল্যের চেয়েও বড় চমক রয়েছে দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির বাসিন্দাদের জন্য। পাহাড়ের কৃষকদের ফল চাষে আরও বেশি উৎসাহিত করতে সরকার সেখানে চারার দাম সমতলের চেয়েও অনেক কম রেখেছে। সমতলে যে আমের কলম ৫০ বা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, পাহাড়ের মানুষ তা কিনতে পারছেন মাত্র ৪০-৫০ টাকায়। একইভাবে লিচুর কলম পার্বত্য অঞ্চলে মিলছে মাত্র ৪০ টাকায়।
শহরের যান্ত্রিক জীবনে যারা ছাদবাগানের স্বপ্ন বুনছেন, তাদের মাটির জোগান বা টব কেনার ঝক্কিও সহ্য করতে হবে না। হর্টিকালচার সেন্টারগুলো এখন এক ছাদের নিচে সবকিছুর সমাধান দিচ্ছে। গাছ রোপণের জন্য তৈরি করা বিশেষ ‘রেডি মিক্স’ দোআঁশ ও জৈব সার মিশ্রিত মাটি পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি মাত্র ২০ টাকায়। সঙ্গে খাঁটি কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট মিলছে প্রতি কেজি ৩০ টাকায়। এ ছাড়া গাছের আকৃতি অনুযায়ী মাটির টব ও উন্নত জিও ব্যাগও পাওয়া যাচ্ছে একদম পাইকারি দরে।
চারা ও মাটির পাশাপাশি এসব সেন্টারে উৎপাদিত তাজা ফলও সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। পুষ্টিগুণে ভরপুর ড্রাগন ফল প্রতি কেজি মাত্র ১৫০ এবং স্ট্রবেরি মাত্র ২০০ টাকা কেজি দরে ঘরের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে সরকার। এমনকি পুষ্টিকর ওয়েস্টার মাশরুমও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০০ টাকা কেজিতে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে চারা কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো জাতের শতভাগ নিশ্চয়তা। বেসরকারি নার্সারি থেকে চারা কিনে অনেক সময় কয়েক বছর পর দেখা যায় সেটি কাঙ্ক্ষিত জাতের নয়, যা ক্রেতাদের চরম হতাশ করে। সরকারি সেন্টারে এই প্রতারিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কম খরচে আসল জাতের চারা চেনার এই সরকারি উদ্যোগ তাই যেকোনো সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় স্বস্তি ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।




