বাজার ব্যবস্থাপনায় এআই দরকার পর্যাপ্ত তথ্যের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
যেকোনো নতুন উদ্যোগের ক্ষেত্রে ভালো-খারাপ উভয় দিকই থাকে, তবে এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণের উদ্যোগটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে অত্যন্ত নিখুঁত বা অ্যাকিউরেট ফল পাওয়া সম্ভব। তবে এ প্রক্রিয়ার সফলতার মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে অতীত ডেটার ওপর।
এআই দিয়ে ডেটা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে অতীতের ডেটা অপরিহার্য এবং ডেটার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে ফলাফলের ধরন বদলে যায়। এআইয়ের কাছে মাত্র সাত দিনের ডেটা থাকলে এক ধরনের ফল আসবে আর সাত বছরের ডেটা থাকলে বিশ্লেষণটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। পণ্যের বাজার মূল্য নির্ধারণে শুধু বর্তমান দাম বিবেচনা করলেই চলে না, এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক প্যারামিটার কাজ করে। একটি পণ্য ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত দাম নির্ধারণে আমদানি করা পণ্যের পরিমাণ, ডলারের মূল্যমান, শিপিং রেট, তেলের দাম, টোল, পরিবহন খরচ ও ট্যাক্স রেটের মতো বিষয় প্রভাব ফেলে। এসব বিষয়ে যত পুরনো ও বেশি দিনের ডেটা থাকবে, এআই তত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী দিতে পারবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ নতুন উদ্যোগে কিছু বাস্তব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যার অন্যতম হার্ডওয়্যার-নির্ভরতা। এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণের জন্য বিশেষায়িত ইকুইপমেন্ট-বেসড হার্ডওয়্যার প্রয়োজন। তবে হার্ডওয়্যারনির্ভর সফটওয়্যার বা স্থানীয় এলএলএম তৈরির প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাংলাদেশের রয়েছে। এখানে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো ডেটা সংরক্ষণের ঘাটতি। অতীতের যেসব প্যারামিটারের ডেটা প্রয়োজন, বাংলাদেশে তা সংরক্ষণের প্রবণতা বেশ কম। এ উদ্যোগের চূড়ান্ত কার্যকারিতা নির্ভর করছে তাদের সংরক্ষিত তথ্যের ওপর। বিবিএসের কাছে ঠিক কত পুরনো ডেটা আছে, কতগুলো প্যারামিটারের ভিত্তিতে তা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো কীভাবে সংরক্ষিত আছে— এর ওপর ভিত্তি করেই বলা যাবে এআইভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণের উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত কতখানি কার্যকর বা সফল হবে।
লেখক: সাবেক চেয়ারম্যান, বেসিস




