যুক্ত হচ্ছে নাফানগর ও পানখালী গ্রাম
- এসডিজি মডেল

সংগৃহীত ছবি
দেশের তিনটি গ্রামকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) মডেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ গ্রামগুলোর সব সমস্যার সমাধান করে বিশ্বের কাছে তুলে ধরা হবে উদাহরণ হিসেবে। গ্রামীণ জীবনের অনেক অনুষঙ্গই থাকবে এ গ্রামগুলোয়; কিন্তু থাকবে না দারিদ্র্য, বাল্যবিয়ে, বেকারত্ব; নদীভাঙন, বন্যার দুর্ভোগ। এ গ্রামগুলো থেকেই এসডিজির আলো ছড়াবে পুরো দেশে।
প্রাথমিকভাবে এসডিজি মডেল গ্রামের তালিকায় ছিল কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সোনারপাড়া এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার তেলিখালী; কিন্তু এ দুটি গ্রামের আর এসডিজি মডেল গ্রাম হয়ে ওঠা হচ্ছে না। আলো ছড়ানোর চেয়ে বরং অন্ধকারেই ডুবে থাকল গ্রাম দুটি। কেন এ গ্রাম দুটিকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্ন।
এদিকে এই মডেল গ্রামের তালিকায় নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর এবং খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রাম। এ দুটি এবং আগের নির্ধারিত রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম। এই তিনটি মডেল গ্রামের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, প্রথম তালিকায় ওই দুটি গ্রামের নাম ছিল; কিন্তু পরে পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিনাজপুরের নাফানগর এবং খুলনার পানখালী গ্রামের অবস্থা আরও খারাপ। দারিদ্র্যের হার বাদ দেওয়া দুটি গ্রামের চেয়ে বেশি। ফলে দুটিকে নতুন করে নির্বাচন করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ সূত্র জানায়, পার্বত্য গ্রাম মিতিঙ্গাছড়ির ছয়টি চ্যালেঞ্জ হলো, ভৌগোলিক দুর্গমতা ও যোগাযোগ সমস্যা, অপ্রতুল মাতৃ-শিশু স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার তুলনামূলক কম হার, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ভূমিধস, অতিবৃষ্টি এবং বেকারত্বের উচ্চহার। এ গ্রামের প্রধান সংকট হলো দুর্গম পাহাড়ি ভৌগোলিক অঞ্চল। নাফানগর সম্পর্কে বলা হয়েছে, দারিদ্র্যবিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করে মডেল গ্রাম বা ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে রূপান্তরের জন্য সরকারি ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের তালিকায় এই গ্রামটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। এখানে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে কাজ করা হবে। এ ছাড়া পানখালীকে এসডিজি ভিলেজ বা টেকসই মডেল গ্রাম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পানখালী গ্রামটিকে টেকসই উন্নয়নের মডেল বা ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। অনুন্নত অবকাঠামো ও প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশকে পেছনে ফেলে এই গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।




