আনসারের উদ্যোগে ৫২০ নারী ভিডিপি সদস্যের জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ শুরু

সংগৃহীত ছবি
দেশের নারীদের বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে ৫২০ জন নারী ভিডিপি সদস্যের ৯০ দিনব্যাপী জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
আজ বুধবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ দেশের ১৩ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একযোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বললেন, এই উদ্যোগ কেবল একটি ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নয়; বরং দেশের পিছিয়ে থাকা ও সম্ভাবনাময় নারী সদস্যদের বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার একটি সমন্বিত প্রয়াস।
তিনি জানালেন, জাপানি ভাষা শিক্ষা থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ-পরবর্তী জাপানে কর্মসংস্থান, আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও সমন্বিতভাবে নেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানালেন, আবাসিক প্রশিক্ষণের পরিবেশকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে নিয়মিত জাপানি ভাষায় পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বললেন, ৯০ দিনের এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা জাপানের ভাষা, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলায় নিজেদের আরও দক্ষ ও সক্ষম করে তুলতে পারবে।
দেশের ১৩টি কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। কেন্দ্রগুলো হলো আনসার-ভিডিপি একাডেমি, গাজীপুর; ভিটিসি, নবাবগঞ্জ (ঢাকা); এবং জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয় ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী, নওগাঁ, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর ও কক্সবাজার।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে Skill Up এবং ADSEC Bangladesh অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। স্কিল আপ জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অন্যদিকে জাপানের ADSEC Group-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান এডসেক বাংলাদেশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের জাপানে কর্মসংস্থান, আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
জাপানের শ্রমবাজারে কেয়ারগিভার, হোটেল ও আতিথেয়তা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি এবং খাদ্যসেবা খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে কাজের জন্য জাপানি ভাষাজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে JLPT N5 সমমানের ভাষাগত দক্ষতা প্রাথমিক যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী আশা করছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন এই উদ্যোগ নারী সদস্যদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও সুদৃঢ় করতে এ কর্মসূচি কার্যকর মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কমান্ডার, জেলা কমান্ড্যান্টসহ বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রশিক্ষণার্থীরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।




