মাইক্রোপ্লাস্টিক ও স্তন ক্যানসার সচেতনতায় স্টেট ইউনিভার্সিটির সেমিনার

সংগৃহীত ছবি
নারীর স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে রাজধানীর মিরপুর-১৩-এ ওজিএসবিএস হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘Microplastics & Women’s Health and Early Identification of Breast Cancer’ শীর্ষক এ আয়োজন করে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইনস্টিটিউট অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কন্টিনিউয়িং এডুকেশন, সহযোগিতা দেয় হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন অর্গানাইজেশন এবং ওজিএসবিএস হাসপাতাল।
সেমিনারে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ওজিএসবিএস হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ফারহানা দেওয়ান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএসডিসিইয়ের পরিচালক মো. মাহমুদুর রহমান। তিনি বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে শিশু ও প্রজননক্ষম নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক শনাক্তকরণ নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. রেজওয়ানা শারমিন। তিনি Self-Breast Examination-এর প্রয়োজনীয়তা সহজভাবে ব্যাখ্যা করে নারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
পরে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনকোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ বিশেষজ্ঞ ও সমন্বয়ক প্রফেসর ডা. ইকবাল কবির এবং এইচএনও চেয়ারম্যান ডা. আবু জামিল ফয়সাল।
আলোচনায় প্রফেসর ডা. ইকবাল কবির উল্লেখ করেন, কার্যকর নীতিনির্ধারণে গবেষণাভিত্তিক তথ্য অপরিহার্য এবং উচ্চতর শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। প্রফেসর ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন জানান, নিয়মিত Self-Breast Examination স্তন ক্যানসার শনাক্তে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ভূমিকা রাখে। ডা. আবু জামিল ফয়সাল যৌথ গবেষণা ও অ্যাডভোকেসির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগই কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে।
সেমিনারে নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি, মাইক্রোপ্লাস্টিকের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা এবং ন্যানোপার্টিকলের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্যানেল সেশনটি সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন প্রফেসর ডা. ফারহানা দেওয়ান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের স্কুল অব হেলথের ডিন প্রফেসর ডা. নওজিয়া ইয়াসমিন। তিনি প্লাস্টিক ব্যবহারে সংযমী হওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগে কাজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রভাষক তাহনিয়াতুল জান্নাত সামিরা। সমাপনী বক্তব্যে প্রফেসর ডা. ফারহানা দেওয়ান এ ধরনের জনস্বাস্থ্যভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



