রাজধানীর কারওয়ান বাজার সবজির হাট
হাতে বাজারের ব্যাগ, কিন্তু স্বস্তি নেই কোথাও; রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দামে হাঁসফাঁস করছে সাধারণ মানুষ। সবজি, মাছ, মুরগি—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই চড়া। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও মিলছে না স্বস্তি; রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে সরাসরি আজকের বাজারের অবস্থা জানাচ্ছেন আমাদের প্রতিনিধি
- ২ ঘণ্টা আগে(১৫:৫৫)

‘বাজারে সবজির সরবরাহ কম, তাই দামও বেশি’
কারওয়ান বাজারে ছোট্ট দোকান সাজিয়ে বসেছেন সবজি বিক্রেতা মো. সোহেল। ভোরে পণ্য নেন আড়ত থেকে। এরপর সকাল থেকে শুরু হয় বিক্রি। তবে আগের মতো ব্যবসা নেই বলে মন খারাপ এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর।
সোহেল বলেছেন, ‘গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় নষ্ট হয়েছে ফসল। ঢাকায় ঠিকমতো মালও আসতে পারেনি। তাই সরবরাহ কম, দামও বেশি।’
‘আমরা বেশি দিয়ে কিনছি, তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দিয়ে। ক্রেতারাও আগের মতো কিনতে পারছেন না।’
আনিস নামের অপর বিক্রেতা বলেছেন, আগে একজন ক্রেতা একসঙ্গে দুই-তিন কেজি সবজি কিনে নিতেন। এখন আধা কেজি বা এক কেজির বেশি নিতে চান না অনেকেই।
এই সবজি বিক্রেতার মতে, অনেকেই দাম শুনে চলে যান। এতে বিক্রি যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে লাভও।
কিচেন মার্কেটের পাশে পাঁচ-সাত ডালা সবজি নিয়ে বসেছেন আব্দুল খালেক। তার দোকানের সামনে তেমন একটা ক্রেতা নেই। তিনি বললেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে কিছুটা। রাস্তা খারাপ ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে পরিবহন খরচও। এজন্য সবজির দাম এখন একটু বেশি।
‘এমন বৃষ্টি হতে থাকলে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে যাবে ক্ষেতে। ফলে সরবরাহ কমবে বাজারে। আর সরবরাহ কমলে দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।’ - ৪ ঘণ্টা আগে(১৩:৪৯)

বেগুন কিনতে গলদঘর্ম তুষার
বাজারের একটি ব্যাগ নিয়ে সবজির দোকানে বেগুনের দাম জিজ্ঞেস করেছিলেন তুষার। এই তরুণ কাজ করেন একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে।
তুষারের প্রশ্নের জবাবে বিক্রেতা জানালেন, বেগুনের কেজি ১০০ টাকা। কোনো কম হবে না।
একটু কমে কেনার আশায় ৮০ টাকা দাম বললেন তুষার। কিন্তু এ দামে রাজি হলেন না বিক্রেতা।
দামে বনিবনা না হওয়ায় পাশে থাকা দোকানের দিকে এগিয়ে যান হার্ডওয়্যারের দোকানের এ কর্মী।
সেখানেও চলল দরদাম। কিন্তু বিক্রেতারা কেউই ১০০ টাকার নিচে বেগুন বিক্রি করতে রাজি হলে না। পরে বাধ্য হয়ে আধাকেজি বেগুন কেনেন তুষার।
বেগুনের পাশাপাশি এই কর্মজীবী বাড়ির জন্য কিনলেন আলুও। তার সঙ্গে কথা হয় আগামীর সময়ের। তিনি বলেছেন, ‘বাসায় তিনটা বাচ্চা। আগে একবার বাজারে এলে কেনা যেত দুই-তিন দিনের পণ্য। এক দিনের বাজার করাটাই এখন কষ্টকর।’
‘যা দরকার, তার অর্ধেক নিয়েই ফিরতে হয় বাজার থেকে’, মলিন মুখে যোগ করেন তুষার।
একই বাজারে দেখা হয় আফরোজা বেগমের সঙ্গে। মাছ কেনার জন্য দরদাম করছিলেন তিনি। তিনি আগামীর সময়কে বললেন, ‘বাচ্চারা মাছ খেতে চায়, কিন্তু এখন মাছের বাজারে গেলে লাগে ভয়। এক কেজি পাঙাসও ২০০ থেকে ২২০ টাকা। অন্যান্য মাছের কথা না হলে বাদই দিলাম।’
আফরোজা জানালেন, আগে মাসে অন্তত দু-তিনবার কিনতে পারতেন মুরগি। এখন সেটি কমাতে বাধ্য হয়েছেন।
‘বাজারে এসে এখন আগে দাম জিজ্ঞেস করি, তারপর ভাবি কিনবো কি না।’
- ৪ ঘণ্টা আগে(১৩:১৭)
মাছ-মাংস ডিমের বাজারেও আগুন
মাছের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি। চাষের পাঙাস ২২০-২৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা এবং রুই ৪০০-৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মাছের দাম আরও বেশি; ৭০০ টাকার নিচে মিলছে না অধিকাংশ মাছ। ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজিও বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২০০ টাকায়।
মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮৫-১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিমের বাজারেও মিশ্র চিত্র। এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়।
বাজার করতে আসা সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘আগে এক হাজার টাকায় সপ্তাহের বাজার হয়ে যেত। এখন দুই-তিনটা সবজি আর অল্প মাছ কিনতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। দিন দিন বাজার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।’
বিক্রেতাদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে দ্রুত দামে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম—যার প্রভাব পড়ছে সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।
- ৫ ঘণ্টা আগে(১২:৩৭)

কাঁচা বাজারের দামে হাঁসফাঁস জনজীবন
হাতে বাজারের ব্যাগ, কিন্তু স্বস্তি নেই কোথাও; রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্যের চড়া দামে হাঁসফাঁস করছে সাধারণ মানুষ। সবজি, মাছ, মুরগি—প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই চড়া। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও মিলছে না স্বস্তি; তালিকা হাতে হিসাব কষেই কমাতে হচ্ছে প্রয়োজনের পণ্য।
রবিবার সকালে কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখনো স্বস্তি ফেরেনি সবজির বাজারে। বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি চড়া। লম্বা বেগুন কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, আর বড় গোল বেগুনের দাম উঠেছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। কাঁকরোলও বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া টমেটো ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ও ঝিঙে ৬০-৮০ টাকা এবং পটোল ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাঁচা মরিচের কেজি ১২০ টাকা। করলা ও লাউয়ের দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকে।
তবে আলু ও পেঁয়াজের বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। নতুন আলু কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা আবদুল মালেক বলেছেন, ‘বাজারে এসে এখন হিসাব করে চলতে হয়। অনেক সময় দরকারের তুলনায় জিনিস কমিয়ে বাসায় ফিরতে হয়।’
গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় ফসল নষ্ট হয়েছে উল্লেখ করে সবজি বিক্রেতা মো. সোহেল জানিয়েছেন, এ সময় কাঁচামাল ঠিকমতো ঢাকায় আসতেও পারেনি। এজন্য বাজারে সরবরাহ কম, তাই দামও বেশি।
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বাড়তি দামের চাপে অনেক ক্রেতাই প্রয়োজনের তুলনায় পণ্য কিনছেন কম। কেউ কেউ আবার শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্য নিয়েই শেষ করছেন বাজার।



