আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ট প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশিদের প্রকল্প চেয়েছে রসাটম

সংগৃহীত ছবি
পরিবেশ ও সামাজিক উদ্ভাবন নিয়ে আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ট প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটম। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশসহ সাত দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রকল্প প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।
‘ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যান্ট কম্পিটিশন অন এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড সোশ্যাল ইনোভেশন’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে উদ্ভাবনী উদ্যোগকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পরিবেশ ও বিভিন্ন কমিউনিটির প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে নতুন কিংবা চলমান প্রকল্প জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রসাটম।
প্রতিযোগিতার আওতায় মোট ১০টি বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে যুব ও পরিবেশগত শিক্ষা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও এনজিওকে সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, নগরভিত্তিক কমিউনিটি উন্নয়ন, প্রাণী কল্যাণ, খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সামাজিক উদ্যোগে ডিজিটাল সমাধান, জনপরিসরের উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যভিত্তিক প্রকল্প।
রসাটম জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য হলো স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। পাশাপাশি তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্যোগ, স্থানীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক সমস্যার সমাধানে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
২০২৬ সালের মূল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ছাড়াও হাঙ্গেরি, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তুরস্ক ও উজবেকিস্তানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন অংশ নিতে পারবে। এ ছাড়া ‘আর্কটিক: ইনোভেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ নামে একটি বিশেষ বিভাগ প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষ এই বিভাগে আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, লজিস্টিকস, বিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে— এমন শিক্ষামূলক, বৈজ্ঞানিক, প্রচারমূলক ও যুব-নেতৃত্বাধীন প্রকল্পকে উৎসাহিত করা হবে। এ বিভাগে এনজিও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, যুব সংগঠন, জাদুঘর ও পরিবেশগত শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আবেদন করতে পারবে।
আবেদনকারীদের প্রকল্পের প্রাসঙ্গিকতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, পদ্ধতিগত কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। নির্বাচিত প্রকল্পগুলো অনলাইনে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১ নভেম্বর। প্রতিযোগিতার ফলাফল আগামী বছরের জানুয়ারিতে ঘোষণা করা হবে। নির্বাচিত প্রকল্পগুলো অনুদান পাওয়ার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশের পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, তরুণদের অংশগ্রহণ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের উদ্যোগ তুলে ধরার পাশাপাশি অর্থায়ন ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা পাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।




