রুয়েটের ছাত্র হল-১
১০ তলা ভবনে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামা
- এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হলে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা
- একই ঠিকাদারের করা ছাত্র হল-২-এর লিফট চালু
- ১৫ অক্টোবরের মধ্যে লিফট চালুর আশ্বাস

সংগৃহীত ছবি
দশতলা আবাসিক হল। প্রায় পাঁচশ শিক্ষার্থী। অথচ নেই সচল লিফট। দিনের পর দিন সিঁড়ি বেয়েই ওঠা-নামা করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর কয়েক দফা লিফট চালুর তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা হয়নি বাস্তবায়ন। দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাসের পরও লিফট চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেকা দিয়েছে ক্ষোভ। এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শতাধিক শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের উদ্দেশে ‘লংমার্চ’ করেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ছাত্র হল-১-এর শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাসের পরও লিফট চালু না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই উপাচার্যের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে না থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফ আবেদনটি গ্রহণ করেছেন।
লিখিত আবেদনে শিক্ষার্থীরা দ্রুত লিফট সচলের দাবি জানান। তারা বলেছেন, নবনির্মিত ১০ তলা ছাত্র হল-১-এ শিক্ষার্থীরা বসবাস শুরু করলেও এখনো লিফট চালু হয়নি। ফলে প্রতিদিন সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করতে হচ্ছে। ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা ও ডাইনিংয়ে যেতে দিনে একাধিকবার নিচে নামতে হয়। আবার উঠতে হয় ওপরের তলায়। তীব্র গরম ও অ্যাকাডেমিক ব্যস্ততার মধ্যে এ ওঠা-নামা তাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করছে। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত নিচে নামানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
হলের শিক্ষার্থী ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ফাহিম রহমান বলেছেন, ৮ তলায় ওঠা-নামার কয়েক দিনের মধ্যেই তার পায়ের পাতায় ব্যথা শুরু হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে পায়ে চাপ দিতে নিষেধ করা হলেও গত দু-তিন মাস ধরে প্রতিদিন তিন-চারবার সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করতে হচ্ছে।
ফাহিম আরও বললেন, ‘স্যারদের জানালে তারা বলেছেন, ঠিকাদার কাজ করছে না। কিন্তু ছাত্র হল-১ ও ছাত্র হল-২-এর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান একই। তাহলে ছাত্র হল-২-এর লিফট চালু হলেও আমাদের হলে কেন চালু হলো না? এটা রুয়েট প্রশাসনের ব্যর্থতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অবহেলার বহিঃপ্রকাশ।’
আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, তিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ছাত্র হল-১-এর লিফট চালুর ব্যবস্থা করবেন। এ ছাড়া হলের অন্যান্য সমস্যা নিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। এসব সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরে ছাত্র হল-১-এর নির্মাণকাজ শেষ করে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের আবাসন-সুবিধা বিবেচনায় প্রকল্পের অধিকাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের প্রায় আট মাস আগেই হলটি খুলে দেওয়া হয়।
গত এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীরা হলটিতে উঠতে শুরু করেন। এরপর হলের অন্যান্য সেবা চালু হলেও লিফট চালু হয়নি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে প্রায় পাঁচ মাসেও লিফটের কাজ শেষ হয়নি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন ভবনে ওঠার পরও এমন ভোগান্তি তাদের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে। তাদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিফট সচল করে আবাসিক শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা হবে। সেই দাবিতেই মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের উদ্দেশে লংমার্চ করেছেন তারা।
জানতে চাইলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।



