Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় বাজেট

‘নিউক্লিয়াস জাম্পে’ বড় স্বপ্ন

নূর মোহাম্মদ
নূর মোহাম্মদ
agamir somoy
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৩:২৭
‘নিউক্লিয়াস জাম্পে’ বড় স্বপ্ন

সংগৃহীত ছবি

গ্রামের জীর্ণ স্কুলঘর। টিনের চালে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ। ভেতরে আলো-আঁধারি ক্লাসরুম। বেঞ্চে বসে কৌতূহলী একদল শিশু। তাদের সামনে ঝুলছে পুরনো ব্ল্যাকবোর্ড। চক-ডাস্টারের চেনা দৃশ্যপট। এই শিশুদেরই হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে আধুনিক ট্যাব। ব্ল্যাকবোর্ডের জায়গায় আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। চক ছেড়ে শিক্ষকরা আঙুল রাখছেন স্ক্রিনে। গতানুগতিক শিক্ষার এই চেনা ছবিটা বদলে দিতে চাইছে সরকার। একে বলা হচ্ছে শিক্ষার ‘নিউক্লিয়াস জাম্প’। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাই যার মূল লক্ষ্য।

জাতীয় বাজেট ঘোষণা হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের। এবার শুধু শিক্ষা খাতেই বরাদ্দ এসেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপির ২ শতাংশ। ১০ বছর আগে এই বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫৩ হাজার কোটি টাকা। এক দশকে বাজেট বেড়েছে আড়াই গুণেরও বেশি। উন্নয়ন বাজেট বা এডিপি বরাদ্দও হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এবার তা দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৪০০ কোটি টাকায়।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মোড় ঘোরাতে সরকার ৩৮টি নতুন প্রকল্প নিয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। এর আওতায় থাকছে চমকপ্রদ কিছু উদ্যোগ।

শিক্ষকদের জন্য থাকছে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি। শিক্ষার্থীরা শিখবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও কোডিং। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা হচ্ছে বাধ্যতামূলক। করানো হবে কৃষি, ইলেকট্রনিক্স বা গ্রাফিক ডিজাইনের মতো ট্রেড কোর্স। সারা দেশে স্থাপন করা হবে নতুন ৩২৯টি কারিগরি স্কুল ও কলেজ। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও পাবে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ। বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা। শেখানো হবে জাপানিজ, কোরিয়ান বা ফ্রেঞ্চ ভাষা। শহরের মানসম্মত ক্লাস গ্রামে পৌঁছে দিতে চালু হবে ‘জাতীয় শিক্ষাটিভি’।

দেওয়া হবে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও উপবৃত্তি। থাকছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণ দেওয়া হবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। মেধা পাচার রোধে আনা হচ্ছে ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ কর্মসূচি।

কাগজে-কলমে এই মহাপরিকল্পনা চমৎকার। কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। প্রধান সংকট শিক্ষকের। দেশের ৬০ শতাংশের বেশি শিক্ষকের নেই প্রযুক্তির ন্যূনতম জ্ঞানটুকুও। প্রায় কোনো স্কুলেই নেই এআই বা কোডিং শেখানোর মতো শিক্ষক। মফস্বলের মাদ্রাসা ও স্কুলগুলোয় আইসিটি বিষয়ের স্থায়ী পদই শূন্য। তৃতীয় ভাষা শেখানোর মতো শিক্ষক কোথা থেকে আসবে, তা-ও স্পষ্ট নয়।

দ্বিতীয় বড় সংকট অবকাঠামো। গ্রামীণ অঞ্চলে এখনো নেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। উচ্চগতির ইন্টারনেটেরও রয়েছে প্রচণ্ড ঘাটতি। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ছাড়া অচল ডিজিটাল ক্লাসরুম।

প্রশ্ন উঠেছে— প্রযুক্তিনির্ভর এই ‘বিগ ব্যাং’ বাস্তবায়নে শিক্ষক, শিক্ষা প্রশাসন, কারিকুলাম ও বিদ্যমান অবকাঠামো কতটা প্রস্তুত। যদিও বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শিক্ষাকে জাতীয় অগ্রযাত্রার ‘নিউক্লিয়াস’ বা মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন। আর সেজন্য ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দের প্রস্তাবও করেছেন।  গত ১০ বছরের শিক্ষার বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি অর্থবছরে বরাদ্দ বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত মিলে বরাদ্দ ছিল ৫৩ হাজার কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুধু শিক্ষায় বরাদ্দ এসেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা।

শিক্ষামন্ত্রী ও বাজেট প্রণয়নে যুক্তরা বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হবে শিক্ষায় আমূল পরিবর্তন এনে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষাকে ডিজিটালে রূপান্তর, গবেষণা, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে। এ ছাড়া থাকবে কারিকুলাম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা পরিমার্জন, বাংলা-ইংরেজির বাইরে বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পোশাক, ব্যাগ, শিক্ষকদের এআই প্রশিক্ষণ, স্মার্ট ক্লাসরুম বিনির্মাণের জন্য আইসিটি সরঞ্জাম কেনা, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ধরে রাখতে এবং ঝরে পড়া ঠেকাতে উপবৃত্তির পরিধি বাড়ানো। রয়েছে মেধা পাচার বা ব্রেইন ড্রেইন বন্ধ এবং বিদেশে থাকা মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্রেইন সার্কুলেশনের মতো জনবান্ধন কর্মসূচিও।

যদিও মাঠপর্যায়ে এসবের বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখছেন শিক্ষাবিদরা। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলছিলেন, ‘দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বড় আকারে বরাদ্দ বেড়েছে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এই বরাদ্দ কীভাবে ব্যয় হবে। আর সেই দক্ষতা কি আমাদের বিদ্যমান কাঠামোতে আছে?’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মতো পর্যাপ্ত শিক্ষক আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। ট্যাব দেওয়ার আগে সেটা চালানোর মতো শিক্ষক তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষক নেতা ও শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন আজিজি বলছিলেন, ‘এআই-কোডিং চালুর সিদ্ধান্ত চমৎকার। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মফস্বলের সিংহভাগ স্কুলে এখনো আইসিটি বিষয়ের জন্য স্থায়ী বা দক্ষ শিক্ষকই নেই। মাদ্রাসা পর্যায়ে এ সংকট আরও প্রকট। সবমিলিয়ে যেকোনো কর্মসূচি নেওয়ার আগে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযোগী করা জরুরি।’

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক রিয়াদুল হাসান বললেন, সরকার শিক্ষায় যে বড় ধরনের ইউটার্ন দিতে চায়, বাজেটের আকার দেখলেই তা বোঝা যায়।

প্রকল্প তৈরিতে যুক্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রস্তাবিত প্রকল্পের মধ্যে ব্যতিক্রমী কিছু প্রকল্প রয়েছে। ড্রপ-আউট ঠেকাতে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, ব্যাগ ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ, উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন, শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী করতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানিজ, কোরিয়ান, মান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ বা জার্মান ভাষাকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন আগামীর সময়ের সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে শিক্ষায় একটি বড় ধরনের রূপান্তরমূলক জাম্প দিতে চাই এবং প্রধানমন্ত্রীও এতে পূর্ণ আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষায় আরও বরাদ্দ দিতে রাজি ছিলেন। তবে রাতারাতি এত বড় বরাদ্দ পেলে তা বাস্তবায়ন করাই চ্যালেঞ্জ হবে। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে দক্ষতার সঙ্গে অপচয়মুক্ত বাস্তবায়ন করা, এটাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ও চ্যালেঞ্জ।

এবারের বাজেটশিক্ষা বাজেটজাতীয় বাজেট
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise