ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
- ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি বৃদ্ধি

সংগৃহীত ছবি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গতকাল রবিবার রাজধানীর মতিঝিলের ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং ডিএসসিসির যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভার প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা, যানজট পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা’।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট ফি বৃদ্ধির বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। ঢাকা চেম্বারের সাবেক এক সহসভাপতি জানালেন, তার ব্যবসার শুরুতে লাইসেন্স ফি ছিল মাত্র ৪৫০ টাকা, যা বেড়ে বর্তমানে ৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্য এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, তার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফি ১০ হাজার ৮১১ টাকা থেকে বেড়ে ১২ হাজার ৮২৫ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া এক বছরের ব্যবধানে নবায়ন ফি ৭ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায় এবং সাইনবোর্ড ফি ৮০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকায় উন্নীত হওয়ার অভিযোগও উঠে আসে সভায়।
ব্যবসায়ীদের মতে, করোনা মহামারী এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তারা এমনিতেই ব্যবসা পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে ফির হার অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে নতুন উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন। তাই ট্যাক্সের হার না বাড়িয়ে পরিধি বাড়ানোর জন্য তারা ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ জানালেন, ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সেবাপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে ট্রেড লাইসেন্স সেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন।
সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান জানালেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের ১৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ১১৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে কাজ করছে সিটি করপোরেশন।
সভায় শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের পথে আরও কিছু প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীরা জানালেন, রাজধানীতে অনিবন্ধিত অটোরিকশার দাপটে যানজট চরম আকার ধারণ করেছে। এসব রিকশা থেকে সরকার কোনো ট্যাক্স পায় না, অথচ রাস্তার ৯০ শতাংশ জায়গা এরাই দখল করে রাখে। তারা অভিযোগ করেন, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন থেকে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করার ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মাসুদ করিমসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন। ডিএসসিসি প্রশাসক ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, দিনের ট্রেড লাইসেন্স দিনেই সম্পন্ন করা হবে। ব্যসায়ীদের অযথা হয়রানি করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।






