ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি, অবস্থান কর্মসূচি কাল

ছবি: আগামীর সময়
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের অপসারণ, ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’।
আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে দেওয়া হয় এই ঘোষণা। এতে সংগঠনের আহ্বায়ক নুরনবী মানিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
দাবি আদায় না হলে আগামীকাল রবিবার থেকে ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
লিখিত বক্তব্যে নুরনবী মানিক বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংক প্রায় ৩ কোটি গ্রাহকের আস্থার প্রতীক। দেশের প্রথম শরীআহভিত্তিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটিতে গ্রাহকদের আস্থা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণ এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।’
‘২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যানকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করিয়ে ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এরপর নামী-বেনামী কোম্পানির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়’, অভিযোগ ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়কের।
ক্ষোভ প্রকাশ করে নুরনবী মানিক বলেছেন, ‘সংসদে অর্থমন্ত্রী বলেছেন ইসলামী ব্যাংকের ৫১% ঋণ খেলাপি। যার পরিমাণ ৭৪ হাজার কোটি টাকা। এই খেলাপি ঋণের সিংহভাগই এস আলম সংশ্লিষ্ট। অথচ তিনি একবারও এই স্বীকৃত ব্যাংক লুটেরার নাম সংসদে উচ্চারণ করেননি। এতে স্পষ্ট হয় যে, ব্যাংক লুটেরা এস আলমকে পুনর্বাসন করতেই তার অপকর্মের সহযোগী খোরশেদ আলমকে অনৈতিকভাবে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
এছাড়াও ব্যাংকটিতে সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন লিখিত বক্তব্যে।
দাবিগুলো- ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত কাউকে ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডে না রাখা, ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল করা, এস আলমের দখলকৃত মালিকানা ও দেশে থাকা সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থের সমন্বয় করা, শুধু ইসলামী ব্যাংক নয়– এস আলম যেন কোনো ব্যাংকেই ফিরতে না পারেন সেই ব্যবস্থা করা এবং ইসলামী ব্যাংকসহ সব ব্যাংক লুটকারীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
তাদের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের দাবিগুলো আজ বিকেল ৪টার মধ্যে না মানলে আগামীকাল (১৪ জুন) ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করবে।
সভাপতির বক্তব্যে নুরনবী মানিক সতর্ক করে বলেছেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে বিতর্কমুক্ত, পেশাদার এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ইসলামী ব্যাংকের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে আস্থাহীনতা সৃষ্টি হলে তা পুরো দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।




