ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক
দাতাদের ঋণে অর্থনীতির অগ্রযাত্রা হবে না
- বিকল্প উৎস হবে শেয়ারবাজার

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে শেয়ারবাজারের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারবিষয়ক) তানভীর শাহরিয়ার গনি। তিনি বলেছেন, অর্থনীতির এই বিশাল অগ্রযাত্রায় যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে, তা শুধু বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য দেশের শেয়ারবাজারকে কাজে লাগাতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।
গতকাল সোমবার ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিল্ডিং ইনভেস্টর কনফিডেন্স: দ্য রোল অব প্রফেশনাল বডিস ইন অডিট রিপোর্টিং, গভর্নেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক এক যৌথ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন। যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আইসিএবি, আইসিএমএবি, আইসিএসবি, আইআইএবি এবং এসিসিএ বাংলাদেশ।
তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবিকে সঙ্গে নিয়ে ২০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নিতে হলে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ আরও অনেক বেশি হবে। তখন ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন দিয়ে চাহিদা পূরণ হবে না; প্রয়োজন হবে ২৫, ৫০— এমনকি ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল বা বিশাল বিনিয়োগ। ফলে অর্থনীতির পরবর্তী ধাপে যেতে শেয়ারবাজারের উন্নয়ন অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেছেন, শেয়ারবাজারে আসার প্রকৃত অর্থ জাতিকে বুঝতে হবে। এজন্য আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক প্রতিবেদন, হিসাবরক্ষণ, নিরীক্ষা, করপোরেট সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। আর্থিক প্রতিবেদন শুধু কিছু হিসাবনিকাশ নয়, বরং এটি পুরো আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থার ভিত্তি। একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে না এসেও কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ও বিশ্লেষকদের মতামত দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি জানালেন, বিনিয়োগকারীরা মূলত অর্থের নিরাপত্তা, নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা, করনীতির স্থিতিশীলতা, আইনি সহায়তা এবং নির্ভরযোগ্য হিসাব ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি যাচাই করেন। এসব মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, আইপিওর ক্ষেত্রে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ডিএসই ও বিএসইসি এতদিন যেসব নথিপত্র যাচাই করত, সেই কাজ এখন থেকে অডিটররা করবেন। পাশাপাশি কোম্পানির মূলধন কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেটিও তারা যাচাই করবেন। এতে আইপিও প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হবে।
তিনি আরও বললেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির অডিটের ক্ষেত্রে শুধু পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট নয়; বরং এক থেকে তিন বছরে কত বড় প্রতিষ্ঠানের অডিট করেছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আইপিওতে এক্সটেন্ডেড অডিট চালুর কারণে অডিটের যোগ্যতার মানদণ্ড নতুন করে নির্ধারণ করা জরুরি।
আইসিএবির সভাপতি সাব্বীর আহমেদ বলেছেন, শেয়ারবাজারে সুশাসন ও আস্থা ফেরাতে হিসাববিদ এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সঠিক অডিটিং এবং স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আস্থা ফেরানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খান দেশের শীর্ষস্থানীয় ও ভালো করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দেন। তিনি জানালেন, সঠিক মূল্যায়নের অভাব, দীর্ঘসূত্রতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণেই বিলিয়ন ডলারের বেশি টার্নওভার থাকা শীর্ষ ব্যবসায়িক গ্রুপ ও অধিকাংশ বহুজাতিক কোম্পানি এখনো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না।



